পবিত্র কোরআনুল কারিম হলো মানবজাতির জন্য পরম হেদায়েত, আত্মিক আরোগ্য ও সুরক্ষার এক অবিনশ্বর ভান্ডার। আর এই মহাগ্রন্থের ১১৪টি সুরার হাজারো আয়াতের মধ্যে সবচেয়ে মহিমান্বিত, ফজিলতপূর্ণ ও শ্রেষ্ঠ আয়াত হলো ‘আয়াতুল কুরসি’। সুরা আল-বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াতটিতে মহান আল্লাহ তাআলার একত্ববাদ, অসীম ক্ষমতা, মহিমা ও সার্বভৌমত্বের পরম সত্য ফুটে উঠেছে।
আয়াতুল কুরসি প্রতিনিয়ত তিলাওয়াতের মাধ্যমে মুমিন বান্দা ইহকালে আল্লাহর বিশেষ নিরাপত্তা লাভ করে এবং পরকালে জান্নাতের স্থায়ী সুসংবাদ অর্জন করে। হাদিস শরিফে বর্ণিত এর প্রধান তিনটি ফজিলত নিচে তুলে ধরা হলো:
১. বিশ্বনবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতি ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকবে না।’ (সুনানে নাসায়ি)।
২. রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রাতে ঘুমানো বা শোয়ার সময় আয়াতুল কুরসি পড়বে, শয়তান সারা রাত তার কাছে আসবে না।’ (সহিহ বুখারি)।
৩. অন্য হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় এটি পাঠ করবে, সে সকাল পর্যন্ত শয়তান থেকে নিরাপদে থাকবে। আর যে সকালে পাঠ করবে, সে সন্ধ্যা পর্যন্ত শয়তান থেকে নিরাপদে থাকবে।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান)।
আজকের অস্থির ও বিপদসংকুল পৃথিবীতে আত্মিক প্রশান্তি আর নিরাপত্তা লাভের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হলো মহান আল্লাহর জিকির। আর সে ক্ষেত্রে আয়াতুল কুরসি হলো মুমিনের জন্য এক দুর্ভেদ্য সুরক্ষা কবচ। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ সালাত শেষে এবং দিন-রাতের নির্দিষ্ট মুহূর্তগুলোতে নিয়মিত এই আয়াতের আমল গড়ে তুললে একদিকে যেমন আমাদের দৈনন্দিন জীবন বিপদ-আপদমুক্ত ও প্রশান্তিময় হয়ে উঠবে, অন্যদিকে পরকালের চিরন্তন জান্নাতের পথও সুগম হবে।