হোম > ইসলাম

কোরআনের পাতায় বিশ্বনবী (সা.)-এর সুমহান ৪ পরিচয়

তাসনিফ আবীদ

‘মুহাম্মদ (সা.)’—পৃথিবীর ইতিহাসে এই নামটি এক অনন্য ও অতুলনীয় সত্তার প্রতীক। তাঁর জীবন, উসওয়াহ বা আদর্শ এবং কর্ম নিয়ে যুগে যুগে যত গবেষণা, আলোচনা কিংবা গ্রন্থ রচিত হয়েছে, মানবজাতির ইতিহাসে অন্য কোনো ব্যক্তিত্বকে নিয়ে তা হয়নি। তবে নবীজি (সা.)-এর প্রকৃত সত্তা, সুউচ্চ স্থান ও আত্মিক মর্যাদা সঠিকভাবে অনুধাবন করতে হলে আমাদের ফিরে যেতে হবে তাঁরই ওপর অবতীর্ণ মহাগ্রন্থ কোরআনের কাছে। কারণ, স্বয়ং মহান আল্লাহ তাআলা কোরআনে হাকিমে তাঁর রাসুলের পরিচয় ফুটিয়ে তুলেছেন অত্যন্ত মহিমান্বিত আঙ্গিকে।

খাতামুন নাবিয়্যিন: কোরআনে মহানবী (সা.)-কে ‘খাতামুন নাবিয়্যিন’ অর্থাৎ নবীগণের মধ্যে সর্বশেষ ও চূড়ান্ত নবী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। কোরআনের স্পষ্ট ঘোষণা, ‘মুহাম্মদ তোমাদের মধ্যকার কোনো পুরুষের পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রাসুল এবং সর্বশেষ নবী।’ (সুরা আহজাব: ৪০)। অর্থাৎ, তাঁর পর কেয়ামত পর্যন্ত আর কোনো নবী বা রাসুলের আগমন ঘটবে না।

আল্লাহর সত্য রাসুল: কোরআন মাজিদে নবীজি (সা.)-এর যে পরিচয়টি সবচেয়ে সুসংহত ও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে, তা হলো তিনি মহান আল্লাহর মনোনীত রাসুল বা বার্তাবাহক। হুদাইবিয়ার ঐতিহাসিক সন্ধিপত্রে কাফেররা যখন ‘মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ উপাধিটি লিখতে ঘোর আপত্তি জানিয়েছিল, তখন স্বয়ং আসমান থেকে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা নাজিল করেন, ‘মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল।’ (সুরা ফাতহ: ২৯)

প্রজ্জ্বল প্রদীপ ও আলোকবর্তিকা: নবীজি (সা.) ছিলেন পথহারা মানবজাতির জন্য অন্ধকার ভেদ করা এক জ্যোতি। আল্লাহ তাআলা তাঁর বহুমুখী গুণাবলি উল্লেখ করে বলেন: ‘হে নবী! আমি তো আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে; এবং আল্লাহর নির্দেশে মানুষকে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও এক প্রজ্জ্বল প্রদীপরূপে।’ (সুরা আহজাব: ৪৫-৪৬)

বিশ্বজগতের জন্য রহমত: পবিত্র কোরআন দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছে যে তিনি কেবল কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী, দেশ কিংবা সময়ের জন্য আসেননি; বরং কিয়ামত পর্যন্ত আসা সমগ্র মানব ও জিন জাতির জন্য প্রেরিত হয়েছেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপই প্রেরণ করেছি।’ (সুরা আম্বিয়া: ১০৭)