আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার জন্য নামাজ হলো সর্বোত্তম মাধ্যম। ফরজ নামাজ আদায় করে বান্দা আল্লাহর হুকুম পালন করে; তা ছাড়া নামাজের পর কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল তার জীবনকে আরও পরিশুদ্ধ করতে সহায়তা করতে পারে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর করণীয় পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো:
১. ইস্তিগফার পাঠ করা: রাসুল (সা.) সালাম ফেরানোর পর তিনবার ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ পড়তেন। ইস্তিগফারের ফজিলত সম্পর্কে নবীজি (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তিগফার পড়ে, মহান আল্লাহ তার জন্য প্রতিটি দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি ও প্রতিটি সংকট থেকে উত্তরণের ব্যবস্থা করে দেন। পাশাপাশি তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।’ (সুনানে আবু দাউদ: ১৫১৮)
২. তাসবিহ পাঠ: নবীজি (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতি ফরজ নামাজের পর ৩৩ বার ‘সোবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার’ পড়বে, অতঃপর ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির’ পড়বে, তার গুনাহ সমুদ্রের ফেনা সমপরিমাণ হলেও ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান: ২০১৩)
৩. আয়াতুল কুরসি: আয়াতুল কুরসি পাঠের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতি ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পড়বে, তার জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকবে না।’ (সুনানে কুবরা: ৯৯২৮)
৪. দোয়া ও মোনাজাত: ফরজ নামাজের পর দোয়া কবুল হয়; তাই এই সময় কায়মনোবাক্যে দোয়া করা উচিত। নবীজিকে (সা.) জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ‘হে আল্লাহর রাসুল, কোন সময়ের দোয়া বেশি কবুল হয়?’ তিনি বলেছিলেন, ‘রাতের শেষভাগে এবং ফরজ নামাজের পর।’ (সহিহুত তারগিব: ১৬৪৮)
৫. কিছুক্ষণ অবস্থান: নামাজ শেষে নামাজের স্থানে কিছুক্ষণ বসে থাকারও ফজিলত রয়েছে। নামাজি ব্যক্তি যতক্ষণ নামাজের স্থানে অবস্থান করে এবং অজু অবস্থায় থাকে, ফেরেশতারা তার জন্য রহমত ও মাগফিরাতের দোয়া করতে থাকেন। (সহিহ বুখারি: ৪৪৫)