হোম > ইসলাম

কালের সাক্ষী ঐতিহাসিক ‘বজরা শাহি মসজিদ’

ফরহাদ হুসাইন

ইতিহাস কেবল বইয়ের মলাট কিংবা বিবর্ণ পাতার আড়ালে বন্দী থাকে না; কিছু ইতিহাস সগৌরবে বেঁচে থাকে প্রাচীন ইটের গাঁথুনি, নান্দনিক কারুকার্য আর মোগল আমলের স্থাপত্যশৈলীর মাঝে। তেমনই এক নীরব ঐতিহ্যের নাম ‘বজরা শাহি মসজিদ’।

দিল্লির দৃষ্টিনন্দন শাহি মসজিদের ঐতিহাসিক আদলে নির্মিত এই মসজিদটি নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী থানার বজরা ইউনিয়নে অবস্থিত। মোগল সম্রাট মুহাম্মদ শাহের আমলের এক অনন্য নিদর্শন এটি। ইতিহাস বলছে, ১৭৪১-৪২ খ্রিষ্টাব্দে জমিদার আমানুল্লাহ ৩০ একর জমির ওপর একটি সুবিশাল দিঘি খনন করেন এবং তার ঠিক পশ্চিম পাড়ে নিজের শৈল্পিক সুরুচির স্বাক্ষর রেখে নির্মাণ করেন এই মন জুড়ানো মসজিদটি।

হৃদয়গ্রাহী বিশাল প্রবেশ তোরণ পেরিয়ে ভেতরে চোখ জুড়ায়। প্রায় ১১৬ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৭৪ ফুট প্রস্থের এই মসজিদটির ভিত মাটির প্রায় ২০ ফুট গভীর থেকে শক্তপোক্তভাবে তৈরি করা হয়েছে। এর তিন গম্বুজবিশিষ্ট সুদৃশ্য ছাদ সাদা মার্বেল পাথরে মোড়ানো, যা দূর থেকেই যে কারও মন কেড়ে নেয়। মসজিদের ভেতরে প্রবেশের জন্য রয়েছে তিনটি ধনুকাকৃতির প্রবেশপথ এবং পশ্চিম দেয়ালে মোগল শিল্পরীতিতে খচিত তিনটি আকর্ষণীয় মিহরাব।

১৭৭ বছরের অবিকৃত ইতিহাস

বজরা শাহি মসজিদের সবচেয়ে বড় বিস্ময় হলো—নির্মাণের পর টানা ১৭৭ বছর এটি কোনো ধরনের সংস্কার ছাড়াই নিজস্ব মহিমায় অটল ছিল। পরে ১৯০৯ সালে প্রথমবার এর সংস্কারকাজ চালানো হয়। সে সময় মসজিদের দেয়াল ও প্রবেশদ্বারে সুরকি ও মোজাইকের নান্দনিক কারুকার্য যোগ করা হয়। মোগল আমলের ইটের ঘ্রাণ আর সুপ্রাচীন এই স্থাপত্যের শিল্পনৈপুণ্য দেখতে আজও দেশ-বিদেশের বহু পর্যটক ছুটে আসেন এখানে। অনেকে আসেন প্রাচীন এই মসজিদের স্নিগ্ধ ও নীরব পরিবেশে মহান আল্লাহর দরবারে সিজদাবনত হয়ে হৃদয়কে প্রশান্ত করতে।

একজন পর্যটক যখন এই ঐতিহাসিক ইমারতের সামনে দাঁড়ান, চোখের পলকে তিনি যেন ৩০০ বছর পেছনে—অষ্টাদশ শতাব্দীর মোগল দরবার ও জৌলুশপূর্ণ সময়ে পৌঁছে যান!

লোককথা ও জনশ্রুতি

প্রাচীন ও ঐতিহাসিক সব স্থাপত্যের মতো বজরা শাহি মসজিদটিকে ঘিরেও রয়েছে কিছু স্থানীয় লোককথা ও জনশ্রুতি। এলাকার মানুষের বিশ্বাস, এই পবিত্র প্রাঙ্গণে মানত করলে আল্লাহর রহমতে ভালো ফল পাওয়া যায়। তাই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে বিভিন্ন সংকট ও বিপদ থেকে মুক্তির আশায় মসজিদের তহবিলে সাধ্যমতো নগদ অর্থ বা আহারসামগ্রী দান করেন।

নোয়াখালীর বজরা হাসপাতালের সামনে থেকে মাত্র ২০০ গজ পশ্চিমে এগোলেই দেখা মেলে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই অনন্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের। অতীত ও বর্তমানের সেতুবন্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই মসজিদটি আজও মোগল আমলের ঐতিহ্য ও গৌরবের গল্প শুনিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে ঐতিহাসিক এই স্থাপত্যটির সংরক্ষণের মূল দায়িত্ব পালন করছে ‘বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর’।

শিক্ষার্থী: জামিয়া নূরিয়া ইসলামিয়া, কামরাঙ্গীরচর, ঢাকা।

সমাজ পরিবর্তনে নবী (সা.)-এর ১০ উদ্যোগ

লেনদেনের পাশাপাশি ধর্মীয় সেবা নতুন রূপে নগদ ইসলামিক

শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা নিয়ে ইসলামের বিধান কী

আজকের নামাজের সময়সূচি: ৩০ অক্টোবর ২০২৬

সুরা ইয়াসিন সম্পর্কে যা জানা জরুরি

সুরা রহমানের বিষয়বস্তু ও গুরুত্ব

নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে যা বলা হয়েছে

আজকের নামাজের সময়সূচি: ২৯ অক্টোবর ২০২৬

সুরা মুলক পড়ার গুরুত্ব

পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করতে সালামের গুরুত্ব