মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের জন্য প্রতিদান হিসেবে জান্নাত প্রস্তুত করে রেখেছেন। মুমিনরা জান্নাতের নিকটবর্তী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মহান আল্লাহর নির্দেশে দরজাগুলো খুলে দেওয়া হবে এবং ফেরেশতারা তাঁদের সাদর সম্ভাষণ জানাবেন।
পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘যখন তারা জান্নাতের কাছে পৌঁছাবে, তাদের জন্য জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হবে এবং জান্নাতের রক্ষীরা তাদেরকে বলবে—তোমাদের প্রতি সালাম। তোমরা সুখী হও এবং জান্নাতে প্রবেশ করো স্থায়ীভাবে সেখানে বসবাসের জন্য।’ (সুরা জুমার: ৭৩)
১. বাবুস সালাত: যাঁরা দৈনন্দিন জীবনে নিজেদের নামাজের ব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন এবং একনিষ্ঠতা ও বিনয়ের সঙ্গে নামাজ আদায় করেন, তাঁদের সম্মানে জান্নাতের এই দরজার নামকরণ করা হয়েছে।
২. বাবুল জিহাদ: যাঁরা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও দ্বীনের সুরক্ষায় একনিষ্ঠভাবে নিজেদের জীবন ও সম্পদ দিয়ে জিহাদ করেছেন, তাঁদের সম্মানার্থে এই দরজা রাখা হয়েছে।
৩. বাবুর রাইয়ান: এই বিশেষ দরজা দিয়ে কেবল রোজা পালনকারীরাই জান্নাতে প্রবেশ করবেন।
৪. বাবুস সাদাকা: মানবকল্যাণে ও অভাবী মানুষের প্রয়োজনে যাঁরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য অকাতরে নিজেদের অর্থ-সম্পদ দান ও সাহায্য করেছেন, তাঁদের সম্মান জানাতে এই দরজার নামকরণ করা হয়েছে।
৫. বাবুল ইমান: যাঁরা ইমান ও তাওয়াক্কুলের অধিকারী এবং কোনো হিসাবনিকাশ ছাড়াই সরাসরি জান্নাতে প্রবেশ করার সৌভাগ্য লাভ করবেন, তাঁদের জন্যই রাখা হয়েছে এই দরজা।
৬. বাবুল কাজিমিনাল গাইজ: যাঁরা নিজেদের ক্রোধ বা রাগ দমন করেন এবং অন্যের ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখেন, তাঁদের বিশেষ মর্যাদা দিতে এই দরজার নামকরণ করা হয়েছে।
৭. বাবুর রাজিয়িন: যাঁরা জীবনের প্রতিটি পরিস্থিতিতে মহান আল্লাহর ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট থাকেন এবং আল্লাহ তাআলাও যাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হন, তাঁদের জন্য নির্ধারিত এই দরজা।
৮. বাবুত তওবা: যাঁরা নিজেদের কৃত ভুল বা পাপের জন্য আন্তরিক অনুশোচনা প্রকাশ করে সর্বদা আল্লাহর কাছে খাঁটি তাওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন, তাঁদের সম্মানে এই দরজার নাম রাখা হয়েছে।