হোম > ইসলাম

নবী (সা.)-এর রওজা মোবারক জিয়ারতের আদব

তাসনিফ আবীদ

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ইমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। একজন মুমিনের কাছে মদিনা মুনাওয়ারা এবং রওজায়ে আতহারের জিয়ারত পৃথিবীর সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত বিষয়গুলোর একটি। হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে আমার ওফাতের পর আমার রওজা জিয়ারত করল, সে যেন আমার জীবদ্দশায় আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করল।’ (দারাকুতনি)

প্রিয় নবীজি (সা.)-এর রওজা শরিফ জিয়ারত করা অত্যন্ত পুণ্য ও মর্যাদাপূর্ণ কাজ। তবে এই পবিত্র স্থানে প্রবেশের এবং জিয়ারত করার কিছু সুনির্দিষ্ট শিষ্টাচার বা আদব রয়েছে, যা প্রতিটি জিয়ারতকারীর মেনে চলা জরুরি।

জিয়ারতের নিয়ত ও প্রস্তুতি

মদিনায় গমনের সময় শুধু রওজা জিয়ারতের নিয়ত না করে মসজিদে নববি জিয়ারতের নিয়ত করা উত্তম। কারণ মসজিদে নববিতে এক রাকাত নামাজ আদায় করা অন্য মসজিদে এক হাজার গুণ নামাজ আদায়ের চেয়ে বেশি সওয়াবের। (সহিহ বুখারি)। এ ছাড়া মদিনার সীমানায় প্রবেশের পর থেকেই অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করা এবং জাগতিক চিন্তা দূর করে মনকে নবীপ্রেম দিয়ে পূর্ণ করে নেওয়া উচিত।

রওজা মোবারক জিয়ারতের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ আদব

১. পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা: জিয়ারতের আগে সুন্দর করে গোসল করে পবিত্র ও মার্জিত পোশাক পরিধান করা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা সুন্নত।

২. মসজিদে নববিতে প্রবেশ: ডান পা দিয়ে মসজিদে প্রবেশ করবেন এবং সম্ভব হলে ‘রিয়াজুল জান্নাহ’য় দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করবেন। এরপর ধীরস্থিরভাবে রওজা শরিফের দিকে অগ্রসর হবেন।

৩. নিচু স্বরে কথা বলা: রওজা শরিফের সামনে কোনোভাবেই উচ্চ স্বরে কথা বলা বা চিৎকার করা যাবে না। অত্যন্ত বিনয় ও অনুচ্চ আওয়াজে সালাম পেশ করতে হবে। পবিত্র কোরআনে নবীজি (সা.)-এর সামনে আওয়াজ নিচু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৪. সালাম পেশ করার নিয়ম: রওজা মোবারকের সামনে পূর্ণ শ্রদ্ধা নিয়ে কিবলামুখী না হয়ে নবীজি (সা.)-এর চেহারা মোবারক বরাবর দাঁড়িয়ে সালাম দিতে হবে। প্রথমে রাসুল (সা.)-কে সালাম দেবেন, এরপর ডানে সরে হজরত আবু বকর (রা.) এবং এরপর হজরত ওমর (রা.)-কে সালাম দেবেন।

৫. স্পর্শ বা চুমু খাওয়া থেকে বিরত থাকা: আবেগপ্রবণ হয়ে নবীজি (সা.)-এর রওজার দেয়াল বা জালি স্পর্শ করা, চুমু দেওয়া কিংবা রওজা তাওয়াফ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এগুলো সুন্নত পরিপন্থী কাজ।

৬. দেওয়ার মালিক একমাত্র আল্লাহ: আল্লাহর কাছে যেভাবে চাওয়া হয়, সেভাবে নবীজি (সা.)-এর কাছে সরাসরি কিছু চাওয়া যাবে না। কোনো কিছু প্রার্থনা করার থাকলে কিবলামুখী হয়ে মহান আল্লাহর কাছেই চাইবেন। তবে নবীজি (সা.)-এর উসিলা নিয়ে দোয়া করা যেতে পারে।

৭. অপ্রয়োজনীয় ভিড় না করা: রওজা শরিফে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকে ভিড় তৈরি করা বা অন্যের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করা ঠিক নয়। সালাম পেশ শেষে অন্যকে সুযোগ করে দিয়ে প্রশান্তির সঙ্গে প্রস্থান করতে হবে।

৮. অবনত দৃষ্টি: জিয়ারতের সময় দৃষ্টি নিচু রাখা এবং অন্তরকে নবীজি (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও চিন্তায় বিভোর রাখা আদবের শামিল।

৯. ধীরস্থিরভাবে প্রস্থান: জিয়ারত শেষে ফেরার সময়ও দরুদ পাঠ করতে হবে এবং আদবের সঙ্গে বের হতে হবে। সম্ভব হলে জান্নাতুল বাকি জিয়ারত করে সকল উম্মতের জন্য দোয়া করা যেতে পারে।

১০. শুকরিয়া আদায়: মদিনার এই পবিত্র ভূমিতে আসার এবং নবীজি (সা.)-এর রওজায় সালাম দেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া সিজদা বা দোয়া করা উচিত।

আশুরার রোজা যেভাবে রাখতে বলেছেন নবীজি (সা.)

আজকের নামাজের সময়সূচি: ২৫ জুন ২০২৬

পর্তুগালের যে মসজিদ মানুষের হৃদয় কাড়ে

মাগরিবের নামাজ পড়ার সঠিক সময় ও ফজিলত

আজকের নামাজের সময়সূচি: ২৪ জুন ২০২৬

ফ্রান্সে ইসলামের আগমন কখন ও কীভাবে

আরবি ১২ মাসের নামের অর্থ ও নামকরণের ইতিহাস

জোহরের নামাজের শেষ সময় কখন

আজকের নামাজের সময়সূচি: ২৩ জুন ২০২৬

উপস্থিত বিপদ থেকে মুক্তির দোয়া