হোম > ইসলাম

ইমানের সঙ্গে রাসুল (সা.)-এর ভালোবাসার গভীর সম্পর্ক

সাকী মাহবুব

মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসা এক গভীর ও শক্তিশালী অনুভূতি। মানুষ যাকে ভালোবাসে, তার গুণাবলি নিজের জীবনে ধারণ করতে চায় এবং তার আদর্শ অনুসরণ করে। তবে একজন মুমিনের জীবনে সবচেয়ে পবিত্র, মহিমান্বিত ও সুগভীর ভালোবাসা হলো মহান আল্লাহর প্রিয় রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি এই অনুরাগ শুধু সাধারণ আবেগ নয়; এটি ইমানের মূল ভিত্তি ও আত্মিক পূর্ণতার অন্যতম পূর্বশর্ত।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘মুমিনদের কাছে নবী হলেন তাদের নিজেদের অপেক্ষা ঘনিষ্ঠতর।’ (সুরা আহজাব: ৬)। অর্থাৎ প্রিয় নবী (সা.)-কে ভালোবাসতে হবে নিজের জীবনের চেয়েও বেশি। তিনি নিজের প্রাণের চেয়েও অধিক মূল্যবান।

সহিহ বুখারির এক হাদিসে এসেছে, হজরত ওমর (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আপনি আমার জীবন ছাড়া সব জিনিস থেকে প্রিয়তম।’ জবাবে মহানবী (সা.) স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ‘না, কসম সেই সত্তার যার হাতে আমার প্রাণ! যতক্ষণ না আমি তোমার কাছে তোমার জীবন থেকেও প্রিয়তর হতে পেরেছি, ততক্ষণ তুমি পূর্ণ মুমিন হতে পারো না।’ তখন ওমর (রা.) অকুণ্ঠচিত্তে বললেন, ‘এখন আপনি আমার জীবনের চেয়েও প্রিয়তম।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘হে ওমর! এখন তুমি পূর্ণ মুমিন।’

হাদিস শরিফে আরও এসেছে, ‘তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ মুমিন হবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা, সন্তান ও সব মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় হই।’ (সহিহ বুখারি)। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি এই সুগভীর ভালোবাসা মানুষকে নৈতিকভাবে উন্নত করে, অন্তরের অহংকার দূর করে এবং রবের সন্তুষ্টির পথে ধাবিত করে। পার্থিব জীবনের ক্ষণস্থায়ী মোহের বিপরীতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে হৃদয়ের সর্বোচ্চ আসনে বসানোই মুমিনের সফলতার মূল চাবিকাঠি।