হোম > ইসলাম

কাবা শরিফ তাওয়াফ করার দোয়া

ইসলাম ডেস্ক

পবিত্র কাবা। ছবি: সংগৃহীত

হজ ও ওমরাহর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও আবেগঘন বিধান হলো কাবা শরিফ তাওয়াফ বা প্রদক্ষিণ করা। পবিত্র কাবার চারপাশ নির্দিষ্ট নিয়মে মোট সাতবার চক্কর দেওয়াকে তাওয়াফ বলা হয়।

তাওয়াফ শুরুর নিয়ম

তাওয়াফ শুরুর প্রথম নিয়ম হলো ‘হাজারে আসওয়াদ’ (কালো পাথর) বরাবর যাওয়া। এরপর ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলে সম্ভব হলে এ পাথরে চুমু দিয়ে কিংবা ভিড়ের কারণে সম্ভব না হলে দূর থেকে ইশারা (ইস্তিলাম) করে তাওয়াফ শুরু করতে হয়।

বিশেষ করে, হজ ও রমজানের মৌসুমে প্রচণ্ড ভিড় থাকায় বয়স্ক, নারী ও অসুস্থদের জন্য পাথরে সরাসরি চুমু দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে হাত দিয়ে দূর থেকে ইশারা করে হাতে চুমু দিলেই তাওয়াফের প্রথম সুন্নত আদায় হয়ে যায়।

তাওয়াফ শুরুর বিশেষ দোয়া

তাওয়াফ শুরু করার সময় এই দোয়া পড়া সুন্নত:

اَللَّهُمَّ إِيْمَانًا بِكَ وَتَصْدِيْقًا بِكِتَابِكَ وَوَفَاءً بِعَهْدِكَ وَاتِّبَاعًا لِسُنَّةِ نَبِيِّكَ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ঈমানান বিকা, ওয়া তাসদিকান বিকিতাবিকা, ওয়া অফায়ান বি’আহদিকা, ওয়াত্তিবা’আন লিসুন্নাতি নাবিইয়িকা মুহাম্মাদিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

অর্থ: ‘হে আল্লাহ, তোমার প্রতি ইমান এনে, তোমার কিতাবের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে, তোমার সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করার লক্ষ্যে এবং তোমার নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নত অনুসরণের উদ্দেশ্যেই আমি এই তাওয়াফ করছি।’

ইজতিবা—ডান কাঁধ খালি রাখা

পুরুষদের জন্য ইহরাম অবস্থায় তাওয়াফ শুরুর আগে ‘ইজতিবা’ করা সুন্নত। অর্থাৎ, ইহরামের চাদরের এক পাশ ডান বগলের নিচ দিয়ে এনে বাম কাঁধের ওপর জড়িয়ে দিতে হবে, যেন ডান কাঁধ ও বাহু উন্মুক্ত থাকে। তবে তাওয়াফ শেষ হলে সালাতের আগে কাঁধ আবার ঢেকে নিতে হবে।

‘রমল’ করার বিধান

তাওয়াফের প্রথম তিন চক্রে পুরুষদের বুক ফুলিয়ে, ছোট ছোট পদক্ষেপে একটু দ্রুতগতিতে হেলান দিয়ে চলার ভঙ্গিতে হাঁটার নির্দেশ রয়েছে। আরবিতে একে ‘রমল’ বলা হয়। অন্য চার চক্র স্বাভাবিক হাঁটার গতিতেই সম্পন্ন করতে হয়।

মনে রাখা প্রয়োজন:

  • ক. মক্কায় প্রবেশের পর কিংবা ইহরাম অবস্থায় প্রথম যে তাওয়াফটি করা হয় (যেমন: ওমরাহর তাওয়াফ বা তাওয়াফে কুদুম), কেবল সেটির প্রথম তিন চক্রেই ‘রমল’ করার বিধান আছে। পরবর্তী সাধারণ তাওয়াফগুলোতে রমল করার প্রয়োজন নেই।
  • খ. নারীদের জন্য ‘রমল’ করার কোনো বিধান নেই; তাঁরা স্বাভাবিক গতিতেই তাওয়াফ সম্পন্ন করবেন।

তাওয়াফকালীন জিকির ও শিষ্টাচার

তাওয়াফ করা অবস্থায় বেশি বেশি ইস্তিগফার, জিকির ও দোয়া করা উত্তম। এ সময় আল্লাহর কাছে নিজের ভাষায় মনের আকুতি ও প্রয়োজন তুলে ধরে মিনতি করা যায়। প্রয়োজনে কোরআন তিলাওয়াতও করা যায়। তবে দোয়াগুলোর অর্থ বুঝে পড়া ভালো, যেন রবের কাছে কী চাওয়া হচ্ছে, তা হৃদয় দিয়ে অনুভব করা যায়।

তবে দল বেঁধে উচ্চস্বরে সমবেত কণ্ঠে দোয়া পড়া উচিত নয়। এতে অন্য তাওয়াফকারীদের মনঃসংযোগ ও দোয়ায় বিঘ্ন ঘটে। শান্তভাবে নিজের মতো করে বিনম্রচিত্তে দোয়া করাই তাওয়াফের প্রকৃত সৌন্দর্য।

ইবাদতে স্বাদ পাওয়ার ৪ উপায়

আজকের নামাজের সময়সূচি: ০৪ আগস্ট ২০২৬

১০ মাসে কোরআনের হাফেজ ৯ বছরের আরহাম

মা-বাবার জন্য কোরআনে বর্ণিত ৪ দোয়া

কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উপায়

আজকের নামাজের সময়সূচি: ০৩ আগস্ট ২০২৬

সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াতের অর্থ ও ফজিলত

নবীদের জীবন থেকে পাওয়া ৫ শিক্ষা

আজকের নামাজের সময়সূচি: ০২ আগস্ট ২০২৬

ইসলামে জ্ঞান অর্জনের গুরুত্ব ও জ্ঞানীর মর্যাদা