রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসার দাবি মুখে করা সহজ, কিন্তু সেই ভালোবাসার প্রকৃত সত্যতা প্রকাশিত হয় আমলে ও জীবনযাত্রায়। নবীপ্রেম কেবল কোনো আনুষ্ঠানিকতা, আবেগ কিংবা মৌখিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পথনির্দেশক হিসেবে গ্রহণ করা এবং তাঁর নির্দেশিত পথ অনুসরণ করাই হলো নবীপ্রেমের আসল ও বাস্তবিক প্রমাণ।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।’ (সুরা আল-আহজাব: ২১)। রবের ভালোবাসার পথও রাসুল (সা.)-এর অনুসরণের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। আল্লাহ তাআলা সুরা আলে ইমরানের ৩১ নম্বর আয়াতে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—যদি মানুষ আল্লাহকে ভালোবাসতে চায়, তবে যেন রাসুল (সা.)-এর অনুসরণ করে; তবে আল্লাহও বান্দাকে ভালোবাসবেন এবং তার গুনাহ মার্জনা করবেন।
নবীপ্রেমের প্রথম ও প্রধান দাবি হলো—নিজের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে প্রিয় নবী (সা.)-এর সুন্নতগুলো জীবন্ত করে তোলা। কথাবার্তা, পোশাকপরিচ্ছদ, আচার-ব্যবহার, লেনদেন ও ইবাদতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনুকরণ করা। নফসের অন্যায় খেয়ালখুশি পরিহার করে সর্বদা সুন্নাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া। দ্বিতীয়ত, পরিবার ও সমাজে নবীজি (সা.)-এর সুন্নতের প্রচার ও প্রসারে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া, যেন সাধারণ মানুষের মধ্যে তাঁর সুন্নাহ অনুসরণের স্বতঃস্ফূর্ত আগ্রহ ও অভ্যাস গড়ে ওঠে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন দয়া, বিনয়, সত্যবাদিতা, আমানতদারি ও ক্ষমাশীলতার অনন্য প্রতীক। তাই সত্যিকারের নবীপ্রেম আমাদের মিথ্যা পরিহার করতে শেখায়, আমানত রক্ষা করতে উৎসাহিত করে, মা-বাবার সেবা ও মানুষের দুঃখ লাঘব করতে শেখায়। রাসুল (সা.)-এর শেখানো সালাম, ইনসাফ ও মানবিক আদর্শকে দৈনন্দিন জীবনে রূপ দেওয়ার মাধ্যমেই নবীপ্রেমের দাবি সার্থক হয়।