জীবনচক্রে অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ-আপদ, রোগব্যাধি কিংবা নানাবিধ সংকট আসা স্বাভাবিক। ইসলামে এসব অনিষ্ট ও ক্ষয়ক্ষতি থেকে আত্মরক্ষার মূল শিক্ষা হলো—সর্বাবস্থায় মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা (তাওয়াক্কুল) রাখা এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো দোয়াগুলো দৈনিক জীবনে চর্চা করা।
দৈনন্দিন জীবনের সুরক্ষায় প্রিয়নবী (সা.) বেশ কিছু মাসনুন দোয়া পাঠের বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন, যা যেকোনো অনিষ্ট ও ক্ষতি থেকে আল্লাহর দরবারে আশ্রয় লাভের অত্যন্ত শক্তিশালী মাধ্যম। নিচে প্রতিদিনের সুরক্ষায় মহানবী (সা.)-এর শেখানো গুরুত্বপূর্ণ ৩টি দোয়া তুলে ধরা হলো:
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি সকালে ও সন্ধ্যায় এই দোয়া পাঠ করবে, কোনো কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না।
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু মাআসমিহি শাইউন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস-সামায়ি ওয়াহুয়াস-সামিউল আলিম।
অর্থ: আল্লাহর নামে শুরু করছি, যার নামের বরকতে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই কোনো ক্ষতি করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ। (সুনানে আবু দাউদ)
আকস্মিক বিপদ-আপদ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাঁচতে মহানবী (সা.) প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় এই দোয়াটি পাঠ করতেন।
اللَّهُمَّ احْفَظْنِي مِنْ بَينِ يَدَيَّ, وَمِنْ خَلْفِي, وَعَنْ يَمِينِي, وَعَنْ شِمَالِي, وَمِنْ فَوْقِي, وَأَعُوذُ بِعَظَمَتِكَ أَنْ أُغْتَالَ مِنْ تَحْتِي
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাহফাজনি মিন বাইনি ইয়াদায়্যা, ওয়া মিন খালফি, ওয়া আন ইয়ামিনি, ওয়া আন শিমালি, ওয়া মিন ফাওকি, ওয়া আউজু বিআজামাতিকা আন উগতালা মিন তাহতি।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে রক্ষা করুন আমার সামনে থেকে, পিছন থেকে, ডান পাশ থেকে, বাম পাশ থেকে এবং ওপরের দিক থেকে। আর আমি আপনার মহত্ত্বের উসিলায় নিচ থেকে আকস্মিক আক্রান্ত হওয়া (যেমন: ভূমিধস বা ভূমিকম্প) থেকে আশ্রয় চাই। (সুনানে ইবনে মাজাহ)
যেকোনো নতুন স্থানে অবস্থানকালে কিংবা বিষাক্ত প্রাণী ও ক্ষতিকর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে বাঁচতে এই দোয়া পাঠের নির্দেশ রয়েছে।
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
উচ্চারণ: আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তামমাতি মিন শাররি মা খালাক।
অর্থ: আল্লাহর নিখুঁত বাণীর অসিলায় তাঁর সৃষ্টি করা সব কিছুর অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। (সহিহ মুসলিম)
হাদিসে এসব মাসনুন দোয়া বিশেষ করে প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় নিয়মিত জিকির হিসেবে পাঠ করার জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তবে মনে রাখা জরুরি—কেবল দোয়া পাঠ করেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না।
আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখার পাশাপাশি সম্ভাব্য বিপদ এড়াতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করাও ইসলামের অপরিহার্য শিক্ষা।