পাকিস্তানসহ বিশ্ব তাবলিগ জামাতের অন্যতম প্রবীণ মুরব্বি ও বিশিষ্ট আলেম মাওলানা এহসানুল হক ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
বাংলাদেশ তাবলিগ জামাত আলমি শুরার মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান তাঁর ইন্তেকালের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মাওলানা এহসানুল হক পাকিস্তানের রাইবেন্ডসহ বিশ্ব তাবলিগ জামাতের আলমি শুরার একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি রাইবেন্ড মারকাজের প্রবীণ মুরব্বি হিসেবে দীর্ঘদিন দাওয়াত ও তাবলিগের মেহনতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
মাওলানা এহসানুল হক দীর্ঘদিন মেহনতের মাধ্যমে মানুষের কাছে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ইলম শিক্ষা, শিক্ষকতা ও দাওয়াতি মেহনতের পাশাপাশি তিনি প্রবীণ মুরব্বিদের সান্নিধ্যে থেকে দ্বীনি খেদমত আঞ্জাম দেন।
পারিবারিকভাবেও তিনি তাবলিগ জামাতের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি পাকিস্তানের তাবলিগ জামাতের আমির বাবু বশিরের সন্তান। বাবু বশির বাংলাদেশের তাবলিগের মেহনতকে এগিয়ে নেওয়ার জন্যও অনেক চেষ্টা ও পরিশ্রম করেছেন। জানা যায়, তাঁর বাবা তাঁকে দ্বীনের কাজের জন্য ওয়াকফ করে দিয়েছিলেন।
শিক্ষাজীবনে মাওলানা এহসানুল হক ভারতের সাহারানপুরের মাজাহিরুল উলুম মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেন। সেখানে তিনি মাওলানা হারুনের সঙ্গে একই সময়ে অধ্যয়ন করেন। তিনি শাইখুল হাদিস মাওলানা মুহাম্মদ জাকারিয়া কান্ধলভি (রহ.)-এর কাছে হাদিস অধ্যয়ন করেন এবং পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিন তাঁর খেদমতে নিয়োজিত ছিলেন।
ছাত্রজীবনেই তাঁর ইলমি ও রুহানি যোগ্যতায় সন্তুষ্ট হয়ে শাইখুল হাদিস মাওলানা মুহাম্মদ জাকারিয়া কান্ধলভি (রহ.) তাঁকে খেলাফত প্রদান করেন। পড়াশোনা শেষ করার পর তৎকালীন আলেমদের তাবলিগে সময় দেওয়ার প্রচলিত রীতি অনুযায়ী তিনি সাত চিল্লার জন্য আল্লাহর রাস্তায় বের হন।
তাবলিগের নির্ধারিত সময় শেষ করার পর তিনি ভারতের নিজামুদ্দিন মারকাজের কাশিফুল উলুম মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেন। সেখানে তিনি মাওলানা হারুনের সঙ্গেও শিক্ষকতা করেছেন বলে জানা যায়।
মাওলানা ইউসুফ (রহ.)-এর ইন্তেকালের পর তিনি পাকিস্তানের রাইবেন্ড মারকাজে চলে আসেন। এরপর ইলম শিক্ষা ও দাওয়াতি মেহনতের পাশাপাশি রাইবেন্ড মারকাজের বিভিন্ন দায়িত্বে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এ ছাড়া মাওলানা ইলিয়াস (রহ.)-এর পরিবারের সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।
দীর্ঘ ইলমি জীবন, প্রবীণ আলেম ও মুরব্বিদের সান্নিধ্য এবং দাওয়াতি মেহনতে অবদানের কারণে তাবলিগের অঙ্গনে তিনি একজন সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তাঁর ইন্তেকালে বিশ্বজুড়ে তাবলিগের সাথি ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।