মা-বাবার জন্য দোয়া করা সন্তান হিসেবে গভীর ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও অনুরাগের সুন্দরতম বহিঃপ্রকাশ। পবিত্র কোরআন ও সহিহ হাদিসে মা-বাবার অধিকার রক্ষা ও তাঁদের প্রতি সদাচরণের বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ বনি ইসরাইলের কাছ থেকে নেওয়া অঙ্গীকারেও নিজের ইবাদতের পরেই মা-বাবার প্রতি সদয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ভাষ্যমতে, আল্লাহর সন্তুষ্টি নির্ভর করে মা-বাবার সন্তুষ্টির ওপর, আর আল্লাহর অসন্তুষ্টি নির্ভর করে মা-বাবার অসন্তুষ্টির ওপর। এমনকি নফল জিহাদের চেয়েও জীবিত মা-বাবার খেদমত ও সেবাকে ইসলামে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
সন্তান হিসেবে মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অন্যতম প্রধান উপায় হলো তাঁদের জন্য রবের দরবারে নিয়মিত প্রার্থনা করা। নিচে কোরআনুল কারিমে বর্ণিত বিশেষ চারটি দোয়ার বিবরণ দেওয়া হলো:
শৈশবে মা-বাবা যেভাবে আমাদের অসীম মমতায় লালন-পালন করেছেন, তার প্রতিদানস্বরূপ রবের বিশেষ দয়া কামনায় এই দোয়াটি তিলাওয়াত করতে বলা হয়েছে:
رَّبِّ ٱرْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِى صَغِيرًا
উচ্চারণ: রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বাইয়ানি সাগিরা।
অর্থ: ‘হে আমার প্রতিপালক, তাঁদের উভয়ের প্রতি দয়া করো, যেভাবে তাঁরা আমাকে শৈশবে লালন-পালন করেছেন।’ (সুরা বনি ইসরাইল: ২৪)
মা-বাবার প্রতি অর্পিত নিয়ামতের শোকরিয়া আদায় এবং সৎকাজে অবিচল থাকার জন্য সুলাইমান (আ.)-এর প্রার্থনার অনুসরণে এই দোয়াটি অত্যন্ত অর্থবহ:
رَبِّ أَوْزِعْنِىٓ أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ ٱلَّتِىٓ أَنْعَمْتَ عَلَىَّ وَعَلَىٰ وَٲلِدَىَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَـٰلِحًا تَرْضَـٰهُ وَأَدْخِلْنِى بِرَحْمَتِكَ فِى عِبَادِكَ ٱلصَّـٰلِحِينَ
উচ্চারণ: রাব্বি আওযি ‘নি আন আশকুরা নি ‘মাতাকাল্লাতি আন ‘আমতা ‘আলাইয়া ওয়া ‘আলা ওয়ালিদাইয়া ওয়া আন আ ‘মালা সালিহান তারদাহু, ওয়া আদখিলনি বিরাহমাতিকা ফি ‘ইবাদিকাস সালিহীন।
অর্থ: ‘হে আমার পালনকর্তা, আমাকে সামর্থ্য দাও যাতে আমি তোমার সেই নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি, যা তুমি আমাকে ও আমার মা-বাবাকে দান করেছ এবং যাতে আমি এমন সৎকর্ম করতে পারি যা তুমি পছন্দ করো। আর তোমার রহমতে আমাকে তোমার সৎ বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করো।’ (সুরা নামল: ১৯)
নিজের ঘর ও মা-বাবার সার্বিক নিরাপত্তার পাশাপাশি ক্ষমার দরখাস্ত হিসেবে নুহ (আ.)-এর এই দোয়াটি কোরআনে স্থান পেয়েছে:
رَّبِّ ٱغْفِرْ لِى وَلِوَٲلِدَىَّ وَلِمَن دَخَلَ بَيْتِىَ مُؤْمِنًا وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَٱلْمُؤْمِنَـٰتِ وَلَا تَزِدِ ٱلظَّـٰلِمِينَ إِلَّا تَبَارًاب
উচ্চারণ: রাব্বিগফির লি ওয়া লিওয়ালিদাইয়া ওয়া লিমান দাখালা বাইতিয়া মু ‘মিনান ওয়া লিল মু ‘মিনিনা ওয়াল মু ‘মিনাতি, ওয়া লা তাযিদিজ জোয়ালিমিনা ইল্লা তাবারা।
অর্থ: ‘হে আমার পালনকর্তা, আমাকে, আমার মা-বাবাকে, যারা মুমিন হয়ে আমার গৃহে প্রবেশ করেছে তাদের এবং সব মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীকে ক্ষমা করো।’ (সুরা নুহ: ২৮)
মা-বাবার মাগফিরাত ও ক্ষমা প্রার্থনার জন্য এটি অত্যন্ত সুন্দর একটি কোরআনি মোনাজাত:
رَبَّنَا ٱغْفِرْ لِى وَلِوَٲلِدَىَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ ٱلْحِسَابُ
উচ্চারণ: রাব্বানাগফির লি ওয়া লিওয়ালিদাইয়া ওয়া লিল মু ‘মিনিনা ইয়াওমা ইয়াকূমুল হিসাব।
অর্থ: ‘হে আমাদের পালনকর্তা, আমাকে, আমার মা-বাবাকে এবং সব মুমিনকে সেই দিন ক্ষমা করো, যেদিন হিসাব কায়েম হবে।’ (সুরা ইবরাহিম: ৪১)
শৈশবে আমরা যখন সম্পূর্ণ অসহায় ছিলাম, তখন মা-বাবাই ছিলেন আমাদের একমাত্র নিরাপদ আশ্রয়স্থল। সন্তান হিসেবে তাঁদের এই আত্মত্যাগ ও অবদানের কথা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। প্রতিদিনের মোনাজাতে ও বিশেষ সময়ে এই আয়াতগুলোর মাধ্যমে দোয়া করা একজন দায়িত্বশীল সন্তানের অপরিহার্য দায়িত্ব।