হজ ইসলামের একটি মৌলিক স্তম্ভ, যা প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলিমের ওপর জীবনে একবার পালন করা ফরজ। পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে আল্লাহ তাআলা হজের বিধান, গুরুত্ব ও করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
পবিত্র কাবা শরিফ পৃথিবীর প্রথম ঘর, যা মানুষের ইবাদতের জন্য নির্মিত হয়েছে। সুরা আলে ইমরানে আল্লাহ তাআলা হজ ফরজের ঘোষণা দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে এসেছে—
اِنَّ اَوَّلَ بَيْتٍ وُّضِعَ لِلنَّاسِ لَلَّذِيْ بِبَكَّةَ مُبٰرَكًا وَّ هُدًي لِّلْعٰلَمِيْنَ، فِيْهِ اٰيٰتٌۢ بَيِّنٰتٌ مَّقامُ اِبْرهِيْمَ، وَمَنْ دَخَلَهٗ كَانَ اٰمِنًا، وَلِلهِ عَلَي النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ اِلَيْهِ سَبِيْلًا، وَمَنْ كَفَرَ فَاِنَّ اللهَ غَنِيٌّ عَنِ الْعٰلَمِيْنَ
উচ্চারণ: ইন্না আওওয়ালা বাইতিওঁ উদিআ লিন্না-সি লাল্লাযী বি বাক্কাতা মুবা-রাকাওঁ ওয়া হুদাল লিল আ-লামীন। ফীহি আ-ইয়া-তুম বাইয়িনা-তুম মাক্বা-মু ইবরা-হীম; ওয়া মান দাখালাহূ কা-না আ-মিনা-। ওয়া লিল্লা-হি আলান্না-সি হিজ্জুল বাইতি মানিস তাতা-আ ইলাইহি সাবীলা-। ওয়া মান কাফারা ফায়িন্না আল্লা-হা গানিউন আনিল আ-লামীন।
অর্থ: মানুষের (ইবাদতের) জন্য প্রথম যে ঘর তৈরি করা হয়েছে, তা মক্কায় অবস্থিত। যা বরকতময় এবং বিশ্ববাসীর জন্য হেদায়েতের পথ। তাতে সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি রয়েছে—যেমন মাকামে ইবরাহিম। যে তাতে প্রবেশ করবে, সে নিরাপদ। মানুষের মধ্যে যারা সেখানে পৌঁছার সামর্থ্য রাখে, তাদের ওপর আল্লাহর জন্য এ ঘরের হজ করা ফরজ। আর কেউ অস্বীকার করলে আল্লাহ তো বিশ্বজগতের মুখাপেক্ষী নন। (সুরা আলে ইমরান: ৯৬-৯৭)
হজ ও ওমরাহ করার মূল উদ্দেশ্য হতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। পবিত্র কোরআনে এসেছে—
وَ اَتِمُّوا الْحَجَّ وَ الْعُمْرَةَ لِلهِ
উচ্চারণ: ওয়া আতিম্মুল হাজ্জা ওয়াল ওমরাহতা লিল্লা-হ।
অর্থ: আর তোমরা আল্লাহর (সন্তুষ্টির) জন্য হজ ও ওমরাহ পূর্ণ করো। (সুরা বাকারা: ১৯৬)
আরাফাতে অবস্থান করা হজের প্রধান রুকন। এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন—
فَاِذَاۤ اَفَضْتُمْ مِّنْ عَرَفٰتٍ فَاذْكُرُوا اللهَ عِنْدَ الْمَشْعَرِ الْحَرَامِ
উচ্চারণ: ফাইযা আফাদতুম মিন আরাফা-তিন ফাযকুরু ল্লা-হা ইনদাল মাশআরিল হারাম।
অর্থ: অতঃপর যখন তোমরা আরাফাত থেকে প্রত্যাবর্তন করবে, তখন মাশআরুল হারামের (মুজদালিফা) নিকট আল্লাহকে স্মরণ করো। (সুরা বাকারা: ১৯৮)
মিনায় অবস্থানের দিনগুলোয় বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনে এসেছে—
وَ اذْكُرُوا اللهَ فِيْۤ اَيَّامٍ مَّعْدُوْدٰتٍ
উচ্চারণ: ওয়াযকুরুল্লা-হা ফী আইয়্যামিম মা’দূদাত।
অর্থ: আর তোমরা নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনে আল্লাহকে স্মরণ করো (মিনার দিনসমূহ)। (সুরা বাকারা: ২০৩)
সাফা ও মারওয়া পাহাড় হজ ও ওমরাহর গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং আল্লাহর নিদর্শন। পবিত্র কোরআনে এসেছে—
اِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَآىِٕرِ اللهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ اَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ اَنْ يَّطَّوَّفَ بِهِمَا
উচ্চারণ: ইন্নাস সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন শাআ-ইরিল্লাহ; ফামান হাজ্জাল বাইতা আউই’তামারা ফালা জুনাহা আলাইহি আইঁ ইয়াত্তাওয়াফা বিহিমা।
অর্থ: নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনাবলির অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং, যে ব্যক্তি কাবাঘরে হজ বা ওমরাহ করবে, তার জন্য এ দুটির মধ্যে সায়ি (প্রদক্ষিণ) করাতে কোনো গোনাহ নেই। (সুরা বাকারা: ১৫৮)
হজ চলাকালীন মুমিনদের আচরণ কেমন হবে এবং পাথেয় হিসেবে কী শ্রেষ্ঠ, তা আল্লাহ বলে দিয়েছেন—
اَلْحَجُّ اَشْهُرٌ مَّعْلُوْমٰتٌ فَمَنْ فَرَضَ فِيْهِنَّ الْحَجَّ فَلَا رَفَثَ وَلَا فُسُوْقَ وَلَا جِدَالَ فِي الْحَجِّ وَتَزَوَّدُوْا فَاِنَّ خَيْرَ الزَّادِ التَّقْوٰي
উচ্চারণ: আল-হাজ্জু আশহুরুম মা’লূমাত; ফামান ফারাদা ফীহিন্নাল হাজ্জা ফালা রাফাসা ওয়ালা ফুসূক্বা ওয়ালা জিদা-লা ফিল হাজ্জ। ওয়া তাযাওয়াদূ ফাইন্না খাইরায যা-দিত তাক্বওয়া।
অর্থ: হজের নির্দিষ্ট কয়েকটি মাস আছে। যে ব্যক্তি সেই মাসগুলোয় হজের নিয়ত করে, তার জন্য হজের সময় অশ্লীলতা, পাপাচার ও ঝগড়া-বিবাদ করা বৈধ নয়। তোমরা তোমাদের পাথেয় সংগ্রহ করো, নিশ্চয়ই তাকওয়াই হলো শ্রেষ্ঠ পাথেয়। (সুরা বাকারা: ১৯৭)
কোরআনের এই আয়াতগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, হজ তাকওয়া বা খোদাভীতি অর্জনের একটি অনন্য মাধ্যম। হজের প্রতিটি ধাপ—মিনা, আরাফাত, মুজদালিফা ও কাবার তাওয়াফ—মুমিনকে আল্লাহর নৈকট্য লাভে সহায়তা করে।