হোম > ইসলাম

পরকালে রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে থাকার উপায়

সাকী মাহবুব

ছবি: সংগৃহীত

পার্থিব জীবনে মানুষের আবেগ ও ভালোবাসা ক্ষণস্থায়ী হতে পারে; কিন্তু মহান আল্লাহ ও তাঁর প্রিয় রাসুল (সা.)-এর প্রতি হৃদয়ের সুগভীর ভালোবাসা মুমিনের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে পরম কল্যাণের দ্বার উন্মুক্ত করে দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি অনুরাগের সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক ও হৃদয়জুড়ানো সুসংবাদটি এসেছে সহিহ মুসলিমের এক হাদিসে, যা প্রতিটি মুমিনের অন্তরে আশার আলো জ্বালিয়ে দেয়।

হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, কিয়ামত কখন হবে?’ রাসুলুল্লাহ (সা.) তার কাছে জানতে চাইলেন, ‘তুমি কিয়ামতের জন্য কী প্রস্তুতি নিয়েছ?’ লোকটি বিনীতভাবে জবাব দিল, ‘আমি খুব বেশি নামাজ, রোজা কিংবা সদকার প্রস্তুতি নিতে পারিনি; তবে আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে ভালোবাসি।’

এ কথা শুনে রাসুলুল্লাহ (সা.) এক ঐতিহাসিক ও পরম আনন্দের বাণী শুনিয়ে বললেন—‘তুমি (আখিরাতে) তার সঙ্গেই থাকবে, যাকে তুমি ভালোবাসো।’

হজরত আনাস (রা.) বলেন, ইসলাম গ্রহণের পর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এই বাণীর চেয়ে আনন্দদায়ক আর কোনো কথা সাহাবিদের কাছে ছিল না। সহিহ মুসলিমের অপর এক বর্ণনায় এসেছে, একজন ব্যক্তি রাসুল (সা.)-কে এমন এক মানুষকে ভালোবাসার কথা জিজ্ঞাসা করেছিল, যার আমল ও কাজ রাসুল (সা.)-এর মতো নয়। জবাবে প্রিয় নবী (সা.) পুনরায় নিশ্চিত করেছিলেন যে মানুষ তার প্রিয় ব্যক্তির সঙ্গেই শেষপর্যন্ত অবস্থান করবে।

তবে এই ভালোবাসার আশ্বাসের অর্থ কখনোই আমল পরিত্যাগ করা কিংবা উদাসীন হওয়া নয়। বরং সত্যিকারের নবীপ্রেম মানুষকে সুন্নাহ অনুসরণে উদ্দীপ্ত করে, পাপ থেকে দূরে সরিয়ে নেয় এবং চরিত্র গঠনে সহায়ক হয়। যে প্রেম মানুষের চালচলনে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ ফিরিয়ে আনে, তা-ই মূলত সত্যিকারের ভালোবাসা। আর সেই ভালোবাসারই সবচেয়ে সুন্দর শেষ পরিণতি হলো পরকালে জান্নাতে প্রিয় নবী (সা.)-এর মহিমান্বিত সাহচর্য লাভ করা।