বর্তমান সময়ে কবরস্থানে মৃত ব্যক্তির কবর সহজে শনাক্ত করার জন্য নাম-ঠিকানাসংবলিত একটি ছোট ফলক বা নেমপ্লেট লাগাতে দেখা যায়। সাধারণ মানুষের মনে প্রায়ই প্রশ্ন জাগে—ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে এটি কতটুকু বৈধ বা গ্রহণযোগ্য।
ইসলামি শরিয়তের আলোকে, কেবল কবর চিহ্নিত বা চিনে রাখার উদ্দেশ্যে নামফলক কিংবা অন্য কোনো সহজ প্রতীক ব্যবহার করা জায়েজ। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন থেকে একটি সুস্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়। হাদিসে বর্ণিত রয়েছে, প্রখ্যাত সাহাবি হজরত উসমান ইবনে মাজউন (রা.)-এর দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজ হাতে একটি ভারী পাথর এনে তাঁর কবরের মাথার কাছে স্থাপন করেন।
পাথরটি রাখার পর আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, ‘এর মাধ্যমে আমি আমার ভাইয়ের কবরটি চিহ্নিত করে রাখলাম এবং আমার পরিবারের কেউ মারা গেলে (ভবিষ্যতে) তাকে এর পাশে দাফন করব।’ (সুনানে আবু দাউদ: ৩২০৬)। এই হাদিস থেকেই প্রমাণিত হয়, কবর চিনে রাখার সুবিধার্থে সাধারণ কোনো চিহ্ন বা ফলক ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বৈধ।
তবে মনে রাখতে হবে, কবরের ওপর অতিরিক্ত সাজসজ্জা করা, আভিজাত্য প্রকাশ কিংবা অহংকারের মনোভাব প্রদর্শন করা ইসলাম কোনোভাবেই সমর্থন করে না। মুসলমান হিসেবে আমাদের উচিত কবরকে জাঁকজমকপূর্ণ করার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত না হয়ে একে সরল ও স্বাভাবিক রাখা। কারণ, মৃত্যুর পর জাঁকজমকপূর্ণ কবর মৃত ব্যক্তির কোনো উপকারে আসে না; বরং তার জন্য সবচেয়ে বড় উপহার ও মুক্তির মাধ্যম হলো জীবিতদের আন্তরিক দোয়া, ইস্তিগফার এবং ইসালে সওয়াব বা নেক আমল।
তথ্যসূত্র: খুলাসাতুল ফাতওয়া: ১/২২৬