মানবজাতির হিদায়েতের জন্য মহান আল্লাহ যুগে যুগে নবী-রাসুল প্রেরণ করেছেন। তাঁদের কাছে আল্লাহর বাণী পৌঁছানোর অকাট্য ও অতিপ্রাকৃতিক মাধ্যমই হলো ‘ওহি’। আরবি শব্দ ওহির শাব্দিক অর্থ—অত্যন্ত গোপনে এবং দ্রুত ইঙ্গিত করা, ইশারা করা বা লিখে দেওয়া। শরিয়তের পরিভাষায়, আল্লাহ তাআলা নবীদের বিশেষ পন্থায় তাঁর হুকুম, শরিয়তের আইন বা অদেখা জগতের যে খবর জানান, তাকে ওহি বলে। মহানবী (সা.)-এর ওফাতের পর ওহির দ্বার চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে।
ওহির প্রকারভেদ: শরিয়তের পরিভাষায় ওহি মূলত দুই প্রকার: ১. ওহিয়ে জলি বা প্রত্যক্ষ ওহি (আল-কোরআন) : এর ভাব এবং ভাষা উভয়ই মহান আল্লাহর। ২. ওহিয়ে খফি বা পরোক্ষ ওহি (সুন্নাহ বা হাদিস): এর মূল বিষয়বস্তু বা ভাব আল্লাহর তরফ থেকে আসত, তবে রাসুলুল্লাহ (সা.) তা নিজের ভাষা, কর্ম বা সম্মতির মাধ্যমে প্রকাশ করতেন।
ওহি নাজিলের পদ্ধতি: কোরআন ও হাদিসের আলোকে ওহি মৌলিকভাবে চার বা ততোধিক স্তরে ও পদ্ধতিতে নাজিল হতো:
ক. সত্য স্বপ্ন (স্বপ্নাদেশ) : ওহির প্রথম ধাপ। নবুয়তের শুরুতে এবং পরবর্তীকালেও রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘুমের মধ্যে সত্য স্বপ্ন দেখতেন, যা সকালের ভোরের আলোর মতো বাস্তব হয়ে ধরা দিত।
খ. সরাসরি অন্তরে ফুঁকে দেওয়া (ইলহাম) : ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) অদৃশ্য থেকে সরাসরি নবীর অন্তরে আল্লাহর বার্তা প্রক্ষেপণ করতেন।
গ. পর্দার আড়াল থেকে সরাসরি কথা বলা: কোনো মাধ্যম ছাড়া আল্লাহ সরাসরি নবীর সঙ্গে কথা বলতেন, কিন্তু নবী আল্লাহকে দেখতেন না। যেমনটি হয়েছিল মুসা (আ.)-এর সঙ্গে।
ঘ. ফেরেশতা জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে: ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) আল্লাহর বার্তা নিয়ে সরাসরি নবীর সামনে আসতেন। এটি দুটি রূপে হতো: ১. মানুষের বেশে: জিবরাইল (আ.) মানুষের রূপ ধরে আসতেন। অধিকাংশ সময় তিনি সাহাবি দাহিয়াতুল কালবি (রা.)-এর আকৃতিতে আসতেন এবং আল্লাহর হুকুম বলতেন। এটি ছিল ওহি প্রাপ্তির সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি। ২. ফেরেশতার নিজস্ব আকৃতিতে: জিবরাইল (আ.)-কে তাঁর নিজস্ব জন্মগত ও আসল রূপে রাসুলুল্লাহ (সা.) সারা জীবনে মাত্র দুবার দেখেছিলেন, যার উল্লেখ সুরা নাজমে রয়েছে।