হোম > ইসলাম

প্রিয় নবী (সা.) কথা বলতেন যেভাবে

সাকী মাহবুব

ছবি: সংগৃহীত

মহানবী মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাচনশৈলীর অধিকারী। তাঁর কথা বলার ধরন ও শব্দ চয়ন ছিল এতটাই মনোমুগ্ধকর, যা শ্রোতার হৃদয়ে সরাসরি রেখাপাত করত। তাঁর সুমিষ্ট বাণী মানুষকে সত্যের পথে আকর্ষিত করত। হাদিসের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসমূহে তাঁর কথা বলার বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলো স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।

স্পষ্টতা ও ধীরস্থিরতা: রাসুলুল্লাহ (সা.) কখনোই তাড়াহুড়ো করে বা অস্পষ্টভাবে কথা বলতেন না। তিনি সর্বদা অত্যন্ত স্পষ্ট ও ধীরস্থিরভাবে শব্দ উচ্চারণ করতেন।

উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) তোমাদের মতো দ্রুত কথা বলতেন না; বরং তিনি এমন স্পষ্ট ভাষায় কথা বলতেন যে কোনো শ্রবণকারী তা গুনে রাখতে চাইলে স্মরণ রাখতে পারত।’ (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

সহজ অনুধাবন ও পূর্ণ মনোযোগ: গুরুত্বপূর্ণ বার্তা যেন শ্রোতা ভালোভাবে অনুধাবন করতে পারে, সে জন্য তিনি প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কথা পুনরাবৃত্তি করতেন। পাশাপাশি কথা বলার সময় প্রতিপক্ষকে পূর্ণ সম্মান ও মনোযোগ দিতেন।

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুল (সা.) যখন কোনো কথা বলতেন, তা তিনবার পুনরাবৃত্তি করতেন—যাতে তা ভালোভাবে বুঝে নেওয়া যায়।’ (সহিহ বুখারি)

অন্য এক বর্ণনায় জারির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) যখনই কারও সঙ্গে কথা বলতেন, পূর্ণাঙ্গভাবে তাঁর দিকে মুখ ফিরিয়ে কথা বলতেন।’ (শামায়েলে তিরমিজি)

অমায়িক হাসি ও কথামালায় শালীনতা: নবীজি (সা.)-এর কথা বলায় সর্বদা নম্রতা, অমায়িকতা ও সৌহার্দ্য প্রকাশ পেত। অনর্থক, কর্কশ ও মেকি কথাবার্তা থেকে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ মুক্ত।

আবদুল্লাহ ইবনে হারিস (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চেয়ে বেশি মুচকি হাসতে আমি আর কাউকে দেখিনি।’ (জামে তিরমিজি)

একইভাবে আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) কখনোই গালিগালাজকারী, অশ্লীলভাষী কিংবা অভিশাপকারী ছিলেন না।’ (সহিহ বুখারি)