মানুষকে আল্লাহ তাআলা আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরা হিসেবে সর্বোত্তম আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন। বেঁচে থাকার জন্য আসমান-জমিনে ছড়িয়ে দিয়েছেন অগণিত নিয়ামত। মানুষের ওপর আবশ্যক হলো আল্লাহর দেওয়া সেসব নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা আদায় করা।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, ‘যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের নিয়ামত বাড়িয়ে দেব; আর যদি অকৃতজ্ঞ হও, তবে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি অত্যন্ত কঠোর।’ (সুরা ইবরাহিম: ৭)
আল্লাহর দেওয়া আলো, বাতাস, পানি ও প্রতিটি নিশ্বাস তাঁর দান। অথচ আমরা প্রতিনিয়ত তাঁর নিয়ামত ভোগ করেও শুকরিয়া আদায় করছি না। আর আল্লাহর প্রতি অকৃতজ্ঞতার প্রথম ধাপ শুরু হয় সৃষ্টির প্রতি অকৃতজ্ঞতা থেকে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ হয় না, সে আল্লাহর প্রতিও কৃতজ্ঞ হতে পারে না।’ (জামে তিরমিজি: ১৯৫৪)
অথচ আমাদের যাপিত জীবনে এর প্রতিফলন সামান্যই। সারা দিন রোদে পুড়ে রিকশাচালক গন্তব্যে পৌঁছে দিলে আমরা তাকে হাসিমুখে ধন্যবাদ না দিয়ে সামান্য ভাড়ার জন্য ঝগড়া করি। অধীনস্থ কর্মচারীর ছোট ভুলে কঠোর ভাষা ব্যবহার করি। এমনকি ঘরে ফিরে স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে কর্কশ আচরণ করি, যারা আমাদের অপেক্ষায় পথ চেয়ে বসে ছিল। সৃষ্টির প্রতি এই অবজ্ঞা ও কঠোরতা আসলে অকৃতজ্ঞতারই নামান্তর।
অকৃতজ্ঞতার পরিণতি কত ভয়াবহ হতে পারে, তার ঐতিহাসিক প্রমাণ সাবা সম্প্রদায়। আল্লাহ তাদের অঢেল বাগান ও শস্য দান করেছিলেন। কিন্তু তারা অবাধ্য ও অকৃতজ্ঞ হওয়ার কারণে এক প্রলয়ংকরী বন্যায় তাদের সমৃদ্ধ জনপদ ধ্বংস করে দেওয়া হয়।
শুকরিয়া আদায়ের শ্রেষ্ঠ উদাহরণ স্বয়ং নবী করিম (সা.)। দীর্ঘ ইবাদতে তাঁর পা মোবারক ফুলে যেত। আম্মাজান আয়েশা (রা.) যখন জিজ্ঞেস করলেন, কেন আপনি এত পরিশ্রম করছেন? তখন তিনি উত্তর দিয়েছিলেন—‘আমি কি আল্লাহর কৃতজ্ঞ বান্দা হব না?’ (মিশকাতুল মাসাবিহ: ১০৯)
শুকরিয়া কেবল মুখে আলহামদুলিল্লাহ বলা নয়; বরং ইবাদত, মানুষের প্রতি দয়া এবং নেক আমলের মাধ্যমে কাজের দ্বারা তা প্রমাণ করা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর কৃতজ্ঞ বান্দা হওয়ার তৌফিক দান করুন।
লেখক: মুহাম্মদ মাজিদুল ইসলাম