হোম > ইসলাম

দরুদ শরিফের অলৌকিক বরকত ও অনন্য ফজিলত

ইসলাম ডেস্ক

ছবি: সংগৃহীত

দরুদ শরিফ এক সুমহান ও বরকতময় আমল। এটি মুমিনের আত্মার আত্মিক খোরাক ও প্রশান্তির মহা উৎস। নিয়মিত দরুদ পাঠের মাধ্যমে অন্তরে পবিত্রতা আসে, মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা গভীর হয় এবং জীবন ভরে ওঠে অদৃশ্য রহমতে।

পবিত্র কোরআনে স্বয়ং মহান আল্লাহ তাআলা উম্মতকে দরুদ পাঠের নির্দেশ দিয়ে ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর ওপর দরুদ পাঠান; হে ইমানদারগণ, তোমরাও নবীর ওপর দরুদ পাঠাও এবং উত্তম অভিবাদন (সালাম) পেশ করো।’ (সুরা আহজাব: ৫৬)

মর্যাদা বৃদ্ধি ও গায়েবি সাহায্য

নিয়মিত দরুদ পাঠকারীর মর্যাদা আল্লাহ তাআলা বাড়িয়ে দেন। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার ওপর ১০টি রহমত নাজিল করবেন, তার ১০টি গুনাহ মাফ করা হবে এবং ১০টি মর্যাদা বৃদ্ধি করা হবে।’ (সুনানে নাসায়ি)

ইতিহাস ও বুজুর্গদের বর্ণনায় এসেছে, দরুদ পাঠের মাধ্যমে মানুষ প্রতিনিয়ত কঠিন বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা পায়। উবাই ইবনে কাব (রা.) যখন রাসুল (সা.)-কে বললেন যে তিনি তাঁর দোয়ার পুরোটা সময় দরুদ পাঠে ব্যয় করবেন, তখন প্রিয় নবী (সা.) প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ‘তাহলে তোমার সব দুশ্চিন্তা দূর হয়ে যাবে এবং তোমার সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ (জামে তিরমিজি: ২৪৫৭)

বিপদ-আপদ, ঋণ ও রোগ থেকে মুক্তি

দরুদ শরিফ সব ধরনের মানসিক ও শারীরিক ব্যাধি এবং ঋণের বোঝা থেকে মুক্তির পরম অমোঘ মাধ্যম। হাদিস ও আলেমদের বর্ণনায় এমন অসংখ্য ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়, যেখানে অন্ধত্ব, কঠিন ব্যাধি কিংবা ঋণের সাগরে ডুবে যাওয়া মানুষ কেবল নবীজির প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠের বরকতে অলৌকিকভাবে শেফা ও মুক্তি লাভ করেছেন।

এমনকি সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ কিংবা নির্জন প্রান্তরে ডাকাতের কবলে পড়ে প্রাণনাশের মুহূর্তেও দরুদের অসিলায় আল্লাহর পক্ষ থেকে ফেরেশতাদের মাধ্যমে গায়েবি সাহায্য নাজিল হওয়ার বহু বিবরণ ইসলামি ইতিহাসে নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাওয়া যায়।

দোয়া কবুলের পূর্বশর্ত

দোয়া কবুলের অন্যতম প্রধান আদব হলো দোয়ার আগে ও পরে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করা। উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেন, ‘যে পর্যন্ত তোমরা নবীর ওপর দরুদ পাঠ না করবে, সে পর্যন্ত যেকোনো দোয়া আসমান ও জমিনের মাঝখানে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে, ওপরে ওঠে না।’ (জামে তিরমিজি)

কিয়ামতের দিন নবীজির সান্নিধ্য

কিয়ামতের কঠিন দিনে হিসাব-নিকাশের মাঠে মহানবী (সা.)-এর সবচেয়ে নিকটবর্তী হওয়ার একমাত্র উপায় হলো অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করা। ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন আমার নিকটতম ব্যক্তি সে-ই হবে, যে আমার ওপর সবচেয়ে বেশি দরুদ পাঠ করবে।’ (জামে তিরমিজি)

এ ছাড়া পৃথিবীতে মুমিন বান্দা যখনই দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তাআলার বিশেষ নিয়োজিত ফেরেশতাগণ ভ্রাম্যমাণ অবস্থায় সেই সালাম ও দরুদের তোহফা প্রিয় নবী (সা.)-এর রওজা মোবারকে পৌঁছে দেন।

আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘প্রকৃত কৃপণ সেই ব্যক্তি, যার সামনে আমার নাম উচ্চারিত হওয়া সত্ত্বেও সে আমার ওপর দরুদ পাঠ করে না।’ (জামে তিরমিজি)

তাই নবীজি (সা.)-এর নাম শোনার সঙ্গে সঙ্গে অন্তত ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ বলা প্রতিটি মুমিনের নৈতিক ও ইমানি দায়িত্ব।

দরুদ শরিফ পাঠের মাধ্যমে দুনিয়ার অভাব-অনটন, ব্যাধি ও দুশ্চিন্তা যেমন দূর হয়, তেমনি আখিরাতে মিলবে নবীজির শাফায়াত ও জান্নাতের সুসংবাদ। অজু অবস্থায় পাক-পবিত্র স্থানে বসে দরুদ পাঠ করা উত্তম হলেও চলাফেরা ও যেকোনো অবস্থায় এটি জপ করা যায়।

লেখক: ফিরোজ আহমাদ