হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির, কুমিল্লার শীর্ষস্থানীয় আলেম, শায়খুল হাদিস ও আল্লামা নুরুল হক (বট্টগ্রামের হুজুর) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
গতকাল মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত ১১টা ৩৬ মিনিটে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর ইন্তেকালে কুমিল্লাসহ দেশজুড়ে আলেমসমাজ ও ভক্ত-অনুরাগীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আজ বুধবার বেলা ১১টায় গুয়াগঞ্জ কলেজ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর তাঁকে নিজ গ্রামে দাফন করা হবে।
আল্লামা নুরুল হক (রহ.) বট্টগ্রাম হামিদিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম হিসেবে দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। কর্মজীবনে তিনি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলার সাবেক সভাপতি এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলার সভাপতি হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। কুমিল্লার আলেমসমাজের অভিভাবক ও রাহবার হিসেবে তিনি সর্বমহলে ছিলেন অত্যন্ত শ্রদ্ধেয়।
দ্বীনি শিক্ষার বিস্তার, হাদিসের দরস প্রদান, ইসলামের প্রচার-প্রসার এবং হকপন্থী আলেম-ওলামার ঐক্য প্রতিষ্ঠায় তাঁর অসামান্য অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। দেশের বিভিন্ন সংকটময় মুহূর্তে তিনি উম্মতের কল্যাণে সাহসী ও বিচক্ষণ ভূমিকা পালন করেছেন।
তাঁর সান্নিধ্য লাভকারী এক আলেম স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘আল্লামা নুরুল হক (রহ.) ছিলেন এক অনন্য বুজুর্গ। তাঁর আচরণ ছিল অত্যন্ত অমায়িক, মৃদুভাষী ও বিনম্র। ছোটদের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসা ও স্নেহময় দৃষ্টিভঙ্গি সবাইকে মুগ্ধ করত।’
আল্লামা নুরুল হক (রহ.)-এর ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করে রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তাঁরা মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন, আল্লাহ যেন তাঁর বহুমুখী দ্বীনি খেদমতগুলো কবুল করেন, তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউসের উচ্চ মাকাম দান করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, ছাত্র-শিক্ষক ও ভক্ত-অনুরাগীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করেন।