মানবজীবনে জীবনসঙ্গীর প্রভাব অপরিসীম। একজন ভালো সঙ্গী মানুষকে আলোর পথে চালিত করে, আর মন্দ সঙ্গী জীবনকে বিপথগামী করে তোলে। সারা দিনের ক্লান্তি শেষে ঘরে ফিরে সঙ্গীর একটু সহমর্মিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ দেহ-মনকে প্রফুল্ল করে তোলে, মানুষকে নতুন উদ্যমে বাঁচার প্রেরণা জোগায়। তাই নারী-পুরুষ প্রত্যেকেরই প্রথম ও প্রধান প্রত্যাশা থাকে একজন দ্বীনদার ও উত্তম জীবনসঙ্গী লাভ করা।
তবে কেবল ইচ্ছা প্রকাশই যথেষ্ট নয়; সুন্দর ও শান্তিময় জীবনের জন্য আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখার পাশাপাশি তাঁর কাছেই সাহায্য চাওয়া আবশ্যক। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা উত্তম জীবনসঙ্গী ও সুসন্তান লাভের একাধিক দোয়া শিখিয়ে দিয়েছেন।
যাঁরা জীবনসঙ্গী ও সন্তানের কাছ থেকে মানসিক শান্তি লাভ করতে চান, তাঁদের জন্য এটি একটি শ্রেষ্ঠ দোয়া। আয়াতটি হলো:
رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
উচ্চারণ: রাব্বানা হাবলানা মিন আজওয়াজিনা ওয়া জুররিয়্যাতিনা কুররাতা আ‘ইউনিওঁ, ওয়াজ‘আলনা লিলমুত্তাকীনা ইমামা।
অর্থ: ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদের এমন স্ত্রী (বা স্বামী) ও সন্তান দান করুন, যারা আমাদের চোখ জুড়িয়ে দেয়; এবং আমাদের মুত্তাকিদের জন্য আদর্শস্বরূপ করুন।’ (সুরা ফুরকান: ৭৪)
এই দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা পুরুষদের জন্য এমন উত্তম স্ত্রী ও সন্তান দান করেন, যাদের দেখলে মন শান্ত হয়ে যায়। একইভাবে যেসব নারী এই দোয়ার আমল করবেন, আশা করা যায় আল্লাহ তাআলা তাঁদেরও নয়নজুড়ানো স্বামী ও সুসন্তান দান করবেন।
পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, হজরত মুসা (আ.) যখন বিপদগ্রস্ত অবস্থায় আশ্রয়হীন ছিলেন, তখন তিনি পরম আকুতি নিয়ে আল্লাহর দরবারে একটি দোয়া করেছিলেন। এই দোয়ার বরকতে আল্লাহ তাআলা তাঁর থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি উত্তম জীবনসঙ্গীরও ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন।
দোয়াটি হলো:
رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنْزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ
উচ্চারণ: রাব্বি ইন্নি লিমা আনজালতা ইলাইয়্যা মিন খাইরিন ফাকীর।
অর্থ: ‘হে আমার পালনকর্তা! তুমি আমার প্রতি যে অনুগ্রহই নাজিল করবে, নিশ্চয়ই আমি তার মুখাপেক্ষী।’ (সুরা কাসাস: ২৪)
বিবাহের পূর্বে উপযুক্ত জীবনসঙ্গী ও রিজিকের সন্ধানে থাকা যেকোনো মুমিনের জন্য এই দোয়াটি একটি অত্যন্ত কার্যকরী আমল।