পৃথিবীতে মানুষ সাময়িক ক্ষমতার মালিক হয়। তার অধীনে থাকে কিছু মানুষ, যারা ভয়ে কিংবা শ্রদ্ধায় তাকে মান্য করে। সে যদি আল্লাহর তাআলার নির্দেশনা অনুযায়ী ক্ষমতার ন্যায়সংগত ব্যবহার না করে, তাহলে তা হবে জুলুম। তার জন্য রয়েছে জাহান্নামের ভয়ংকর শাস্তি।
ক্ষমতার অপব্যবহারকরীর শাস্তি আল্লাহ তাআলা চাইলে দুনিয়াতেই দিতে পারেন। ছিনিয়ে নিতে পারেন তার ক্ষমতা। তিনি পথের ভিখারিকে সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী করেন। আবার সর্বোচ্চ ক্ষমতাধরকেও বানাতে পারেন রাস্তার ফকির। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘বলুন, হে সার্বভৌম শক্তির মালিক আল্লাহ! আপনি যাকে চান ক্ষমতা প্রদান করেন এবং যার কাছ থেকে চান তা ছিনিয়ে নেন। আপনি যাকে চান সম্মানিত করেন, আর যাকে চান করেন লাঞ্ছিত। আপনার হাতেই কল্যাণ। নিশ্চয়ই আপনি সব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।’ (সুরা আলে ইমরান: ২৬)
ন্যায়পরায়ণতা, ইনসাফ, সুশাসন, অধীনদের অধিকার আদায় এবং তাদের কল্যাণকামিতাই হলো ক্ষমতার যথাযথ ব্যবহার। এমন ক্ষমতাসীনদের জন্য রয়েছে আল্লাহর তাআলার পক্ষ থেকে সীমাহীন মর্যাদা ও সম্মান। পক্ষান্তরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে, প্রভাব খাটিয়ে অন্যায়ভাবে স্বার্থ হাসিল করা। কাউকে তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা ইসলামের দৃষ্টিতে বড় অন্যায় ও জুলুম। হাদিসে উভয় দলের পুরস্কার ও শাস্তির কথা এসেছে, হজরত আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ন্যায়পরায়ণ শাসক (ক্ষমতার যথার্থ ব্যবহারকারী) কিয়ামতের দিন আল্লাহর সর্বাধিক প্রিয় এবং সবচেয়ে নৈকট্যপ্রাপ্ত হবেন। আর অত্যাচারীরা হবে সর্বাধিক ঘৃণিত ও শাস্তিপ্রাপ্ত। অধিকন্তু সে আল্লাহর দরবার থেকেও বহু দূরে অবস্থান করবে। (সুনানে তিরমিজি: ১৩৭৯)
যে যত বড় পদে কাজ করে, তার দায়িত্ব তত বড় এবং পরকালে তার হিসাবও হবে বেশি। যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন না করলে ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে আল্লাহ তাআলার কাছে তাকে জবাবদিহি করতে হবে। এ সম্পর্কে সহিহ বুখারি ও মুসলিমে দীর্ঘ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। (সহিহ বুখারি: ৮৫৩; সহিহ মুসলিম: ৪৮২৮)