দুনিয়ার জীবনে অভাব-দারিদ্র্য এক চরম পরীক্ষার নাম। তীব্র অভাব মানুষের আত্মমর্যাদা ক্ষুণ্ন করে, মানসিক শান্তি বিনষ্ট করে এবং শরিয়তের বিধান ও আল্লাহর ইবাদতে মনোযোগের ব্যাঘাত ঘটায়। ক্ষেত্রবিশেষে দীর্ঘমেয়াদি দারিদ্র্য মানুষকে পাপ ও নৈরাশ্যের দিকে ঠেলে দেয়।
এ কারণেই ইসলামে হালাল জীবিকা উপার্জনের জন্য সর্বোচ্চ পরিশ্রম করার পাশাপাশি অভাব-অনটন থেকে বেঁচে থাকতে রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশিত দোয়া পাঠের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অভাব ও ঋণ থেকে মুক্তি লাভে হাদিসে বর্ণিত বিশেষ দুটি দোয়া নিচে দেওয়া হলো:
‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজু বিকা মিনাল-ফাকরি ওয়াল-কিল্লাতি ওয়াজ-জিল্লাতি, ওয়া আউজু বিকা মিন আন আজলিমা আও উজলাম।’
অর্থ: ‘হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই দারিদ্র্য, অপ্রতুলতা ও অপদস্থ থেকে। এবং আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই কারও ওপর জুলুম করা থেকে অথবা নিজে জুলুমের শিকার হওয়া থেকে।’ (সুনানে আবু দাউদ: ১৫৪৪, সুনানে নাসায়ি: ৫৪৬১)
‘আল্লাহুম্মা রাব্বাস-সামাওয়াতি ওয়া রাব্বাল-আরদি ওয়া রাব্বাল-আরশিল আজিম, রাব্বানা ওয়া রাব্বা কুল্লি শাইয়িন, ফালিকাল-হাব্বি ওয়ান-নাওয়া, ওয়া মুনজিলাত-তাওরাতি ওয়াল-ইনজিলি ওয়াল-ফুরকান; আউজু বিকা মিন শাররি কুল্লি শাইয়িন আনতা আখিজুম বিনাসিয়াতিহি। আল্লাহুম্মা আনতাল-আউয়ালু ফালাইসা কাবলাকা শাইউন, ওয়া আনতাল-আখিরু ফালাইসা বা’দাকা শাইউন, ওয়া আনতাজ-জাহিরু ফালাইসা ফাওকাকা শাইউন, ওয়া আনতাল-বাতিনু ফালাইসা দুনাকা শাইউন; ইকজি আন্নাদ-দাইনা ওয়া আগনিনা মিনাল-ফাকর।’
অর্থ: ‘হে আল্লাহ, আপনি আসমানসমূহ, জমিন ও মহান আরশের প্রতিপালক। আমাদের রব ও সবকিছুর প্রতিপালক। আপনি বীজ ও আঁটি অংকুরিতকারী; তাওরাত, ইঞ্জিল ও ফুরকান (কোরআন) অবতীর্ণকারী। আমি আপনার কাছে এমন সবকিছুর অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই, যার নিয়ন্ত্রণ আপনার হাতে। হে আল্লাহ, আপনিই প্রথম—আপনার পূর্বে কিছু ছিল না; আপনিই সর্বশেষ—আপনার পরে কিছু থাকবে না। আপনি সুপ্রকাশিত—আপনার ওপরে কিছু নেই; আপনি অদৃশ্যে অবস্থানকারী—আপনার গোপনে কিছু নেই। আপনি আমাদের ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করে দিন এবং দারিদ্র্য থেকে আমাদের মুক্ত ও স্বাবলম্বী করুন।’ (সহিহ মুসলিম: ৬৮৮৯)