পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা জ্ঞানীদের সুউচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সুরা জুমারের ৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা প্রশ্নের ছলে ইরশাদ করেন, ‘বলুন, যারা জানে আর যারা জানে না, তারা কি সমান হতে পারে?’ এই প্রশ্নের মধ্য দিয়েই সাধারণ মানুষের চেয়ে জ্ঞানীদের অনন্য ও সুউচ্চ অবস্থান স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সুরা মুজাদালার ১১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ আরও বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা ইমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদা বহু স্তর উন্নত করবেন।’
প্রকৃত জ্ঞান অর্জনকারীদের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো তারা পরম করুণাময়কে গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারে এবং তাঁকে ভয় করে। সুরা ফাতিরের ২৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে শুধু জ্ঞানীরাই তাঁকে ভয় করে।’ অর্থাৎ, মানুষের অর্জিত জ্ঞান যত বৃদ্ধি পাবে, রবের প্রতি তার ভয়, শ্রদ্ধা, বিনয় ও আনুগত্যও তত অনুধাবনীয় ও গভীর হবে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) অসংখ্য হাদিসে জ্ঞানীদের মর্যাদার বর্ণনা দিয়েছেন। এক হাদিসে তিনি ইরশাদ করেন, ‘সাধারণ ইবাদতকারীর ওপর একজন আলেমের মর্যাদা ঠিক তেমন, যেমন তোমাদের সর্বাপেক্ষা সাধারণ ব্যক্তির তুলনায় আমার মর্যাদা!’ (জামে তিরমিজি)। অন্য এক হাদিসে এসেছে, ‘জ্ঞানীদের জন্য সৃষ্টিজগতের সবকিছুই ক্ষমা প্রার্থনা করে, এমনকি সমুদ্রের তলদেশের মাছও।’ এটি জ্ঞানীদের এমন এক বিরল সম্মান, যেখানে সমগ্র সৃষ্টি তাদের কল্যাণের জন্য ব্যাকুল থাকে।
তবে জ্ঞানীদের সবচেয়ে বড় গৌরব হলো তারা নবী-রাসুলগণের উত্তরাধিকারী। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আলেমরা নবীদের ওয়ারিশ বা উত্তরাধিকারী। নবীগণ দিরহাম বা দিনার, অর্থাৎ কোনো পার্থিব সম্পদের উত্তরাধিকার রেখে যাননি; তাঁরা উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে গেছেন ইলম বা ঐশী জ্ঞান।’ (সুনানে আবু দাউদ)
জ্ঞানীদের সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরে রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও একটি সুন্দর উপমা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘পৃথিবীতে আলেমের অবস্থান আসমানের তারকারাজির মতো। নক্ষত্র দেখে যেমন মানুষ আঁধার রাতে পথের দিশা পায়, তেমনি আলেমরা না থাকলে মানুষ পথভ্রষ্টতার অন্ধকারে দিগ্বিদিক হারিয়ে ফেলে।’ (সুনানে বায়হাকি)