আপনার জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন: প্রচলিত যে দস্তরখান খাবারের সময় আমরা বিছিয়ে থাকি; এর মাধ্যমে কি সুন্নত আদায় হয়? কোন ধরনের দস্তরখান ব্যবহার করা সুন্নত? জানতে চাই।
হাবিবা আক্তার, পঞ্চগড়
উত্তর: আহার গ্রহণ মানবজীবনের অন্যতম একটি জরুরি বিষয়। ইসলামে খাবার গ্রহণের বহু সুন্নত ও শিষ্টাচার বর্ণিত হয়েছে, যার অন্যতম হলো দস্তরখান বিছিয়ে খাবার খাওয়া। হাদিস অনুযায়ী, মহানবী (সা.) খাবারের সময় দস্তরখান ব্যবহার করতেন। মূলত যে বস্তুর ওপর খাবার রেখে খাওয়া হয়, শরিয়তের পরিভাষায় তাকে দস্তরখান বা ‘সুফরা’ বলা হয়। সাহাবায়ে কেরামও দস্তরখান বিছিয়ে খাবার গ্রহণ করতেন।
দস্তরখানের নির্দিষ্ট কোনো বাধ্যবাধকতামূলক ধরন হাদিসে নির্ধারণ করা হয়নি। তবে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে চামড়ার তৈরি ‘সুফরা’ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। সাহাবি হজরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেছেন যে রাসুলুল্লাহ (সা.) কখনো টেবিল বা কোনো উঁচু স্থানে এবং ছোট পাত্রে খানা খাননি, বরং চামড়ার দস্তরখানের ওপর রেখে খাবার গ্রহণ করেছেন। তৎকালে চামড়ার দস্তরখানে আংটা থাকত; খুলে বিছানো হলে তা হতো দস্তরখান আর গুটিয়ে ফেললে সফরের পাথেয় রাখার পাত্রে পরিণত হতো।
বর্তমান যুগে চামড়া, রেক্সিন, কাপড় কিংবা প্লাস্টিকসহ যেকোনো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন উপাদান দিয়ে দস্তরখান তৈরি করে ব্যবহার করা যাবে। তবে এটি হতে হবে পরিচ্ছন্ন এবং যেকোনো ধরনের ছবি বা লেখামুক্ত।
আমাদের সমাজে থালা বা বাটির নিচে যে কাপড় বা প্লাস্টিক বিছানো হয়, সেটাকে সাধারণত দস্তরখান মনে করা হয়। অনেক আলেম ও ফিকহবিদের মতে, মূলত যে বস্তুর ওপর সরাসরি খাবার রাখা হয়, সেটাই মূল দস্তরখান; তা হোক মাটির বাসন, কাচের থালা কিংবা প্লাস্টিকের প্লেট।
তবে খাবারের পাত্রের নিচে সুনির্দিষ্টভাবে প্লাস্টিক বা কাপড়ের বিছানা বিছানোকে ‘সুন্নতে হুদা’ বা ইবাদতমূলক বাধ্যতামূলক সুন্নত মনে করে বাড়াবাড়ি করা ঠিক নয়। রাসুল (সা.)-এর এই আমল ছিল অভ্যাসগত বা প্রয়োজনীয় সুন্নত (সুন্নতে আদিয়া)। তা সত্ত্বেও পরিচ্ছন্নতা রক্ষা ও খাবারের শান প্রকাশের জন্য পাত্রের নিচে কাপড় বা প্লাস্টিক বিছিয়ে নেওয়া একটি ভালো অভ্যাস ও উত্তম শিষ্টাচার।
এ ছাড়া দস্তরখান বিছানো থাকলে খাবার বা লোকমা নিচে পড়ে গেলে তা ময়লা হয় না। সহজেই তা তুলে পরিষ্কার করে খাওয়া যায়, যা সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত।
উত্তর দিয়েছেন: মুফতি হাসান আরিফ, ইসলামবিষয়ক গবেষক