আপনার জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন: হজ এবং ওমরাহর সময় তালবিয়া কখন এবং কীভাবে পাঠ করতে হয়? এ বিষয় ইসলামের বিধান কী? জানতে চাই।
তাশরিফ আহমাদ, ঢাকা
উত্তর: হজ ও ওমরাহর পবিত্র সফরে হাজিদের মুখে সবচেয়ে বেশি যে ধ্বনিটি উচ্চারিত হয়, তা হলো ‘তালবিয়া’। এটি মহান আল্লাহর ডাকে বান্দার সাড়া দেওয়ার এক বিশেষ স্লোগান। ইহরাম বাঁধার পর থেকে হজের বিভিন্ন আমল চলাকালীন তালবিয়ার গুঞ্জরণে মুখরিত থাকে মক্কা ও মিনা প্রান্তর। তবে তালবিয়া পড়ার নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম ও সময় রয়েছে।
তালবিয়া কখন পড়তে হয়?
তালবিয়া হলো—‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়াননি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক।’ হজ ও ওমরাহর ক্ষেত্রে তালবিয়া শুরুর সময় একই হলেও শেষ করার সময় ভিন্ন:
১. ওমরাহ পালনকারীর জন্য: ওমরাহর ইহরাম বাঁধার পর থেকে তালবিয়া পাঠ শুরু হবে। এটি চলতে থাকবে পবিত্র কাবার তাওয়াফ শুরু করার আগপর্যন্ত। তাওয়াফ শুরুর প্রাক্কালে হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করার সময় তালবিয়া বন্ধ করে দিতে হয়।
২. হজ পালনকারীর জন্য: হজের ইহরাম বাঁধার পর থেকে তালবিয়া পাঠ শুরু করতে হয়। ১০ জিলহজ জামারাতুল আকাবায় (বড় শয়তানকে) প্রথম কঙ্কর নিক্ষেপের আগপর্যন্ত বারবার তালবিয়া পাঠ করা সুন্নত। কঙ্কর নিক্ষেপ শুরু করার পর থেকে তালবিয়া পাঠ বন্ধ করে ‘আল্লাহু আকবার’ বলতে হয়।
তালবিয়া কীভাবে পড়তে হয়?
তালবিয়া পাঠের ক্ষেত্রে পুরুষ ও নারীদের জন্য শরিয়তে ভিন্ন নিয়ম রয়েছে:
তালবিয়া পাঠের বিশেষ নিয়ম ও বিধান
১. পূর্ণাঙ্গ পাঠ: তালবিয়া পুরোটা পাঠ করা জরুরি। এর কোনো অংশ ছেড়ে দেওয়া মাকরুহ।
২. বিকল্প জিকির: তালবিয়া পাঠ একান্ত অসম্ভব হলে সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ বা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পড়লেও ইহরাম সম্পন্ন হবে, তবে তালবিয়া না পড়া মাকরুহ।
তালবিয়া পাঠের গুরুত্ব ও ফজিলত
কোনো মুমিন যখন তালবিয়া পাঠ করে, তখন তাঁর ডানে-বামে থাকা পাথর, গাছপালা এবং মাটিও তার সঙ্গে তালবিয়া পাঠ করে। আর যখন কেউ আন্তরিকভাবে তালবিয়া পাঠ করে, তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হয়।
উত্তর দিয়েছেন: মুফতি শাব্বির আহমদ, ইসলামবিষয়ক গবেষক