জীবনধারণের জন্য মহান আল্লাহর দেওয়া অন্যতম সেরা নিয়ামত হলো রিজিক বা আহার সামগ্রী। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘ভূমে বিচরণকারী প্রতিটি প্রাণীর রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর।’ (সুরা আনআম: ৩৭)।
অঢেল নিয়ামতের মধ্যে থেকে মানুষ আজ রিজিকের কদর করতে ভুলে গেছে। বিশেষ করে খাবার অপচয় ও অবমূল্যায়ন নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আজ লৌকিকতা, অহংকার, আভিজাত্য প্রকাশ, অতিরিক্ত অর্ডার ও সংরক্ষণহীনতার কারণে বিপুল পরিমাণ খাদ্য ডাস্টবিনে নিক্ষিপ্ত হচ্ছে। উন্নত বিশ্বের শহরগুলোতে অপচয় হওয়া খাবারের এক-দশমাংশ দিয়েই বিশ্বজুড়ে বুভুক্ষু মানুষের ক্ষুধা মেটানো সম্ভব। এমনকি মুসলিম বিশ্বেও অপচয়ের চিত্র কম নয়। অথচ অন্যদিকে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ, বিশেষ করে আফ্রিকার বহু অঞ্চল খাদ্যাভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরছে। আমাদের ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া রুটি কুড়িয়ে খাওয়ার জন্য মানুষ ও কুকুরের হাহাকার দেখেও যেন বিবেক জাগে না।
ইসলাম সর্বক্ষেত্রে মধ্যম পন্থা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা সতর্ক করে বলেন, ‘তোমরা খাও ও পান করো, তবে অপচয় কোরো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।’ (সুরা আরাফ: ৩১)
নিয়ামতের নাশুকরি বা অবমূল্যায়ন করলে কঠিন শাস্তির হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। সুন্নাহর আলোয় তাকালে দেখি, হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন—একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘরে একটি রুটির টুকরা পড়ে থাকতে দেখে তা উঠিয়ে পরিষ্কার করে খেয়ে নেন এবং বলেন, ‘আল্লাহর নিয়ামতের কদর করো; যা একবার চলে যায়, তা আর সহজে ফিরে আসে না।’ (ইবনে মাজাহ: ৩৩৫৩)। অন্যদিকে, লোকমা নিচে পড়ে গেলে তা শয়তানের জন্য ফেলে না রেখে পরিষ্কার করে খাওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন মহানবী (সা.)।
রিজিকের অবমূল্যায়ন ডেকে আনে মারাত্মক পরিণতি। আজই যদি আল্লাহ এই নিয়ামত বন্ধ করে দেন, তবে তা ফিরিয়ে দেওয়ার কেউ নেই। তাই খাবার নষ্ট করাকে আভিজাত্য মনে না করে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা, প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার গ্রহণ ও অপচয় রোধে সচেতন হওয়া আমাদের সবার ইমানি ও নৈতিক দায়িত্ব।