হোম > ইসলাম

মৃত্যু ও পরকাল: অবিনশ্বর জীবনের অনিবার্য যাত্রা

ইফতেখারুল হক হাসনাইন

মৃত্যু এক অমোঘ সত্য, যাকে এড়ানোর সাধ্য কারও নেই। যান্ত্রিক জীবনের কোলাহলে আমরা প্রায়ই ভুলে যাই, আমাদের এই পথচলা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বারবার মৃত্যু ও পরকালের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, যাতে মানুষ দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী মোহে অন্ধ না হয়।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। অতঃপর আমারই কাছে তোমাদের ফিরিয়ে আনা হবে।’ (সুরা আনকাবুত: ৫৭)। তিনি আরও বলেন, ‘যেখানেই থাকো না কেন, মৃত্যু তোমাদের পাকড়াও করবেই—যদি তোমরা সুদৃঢ় দুর্গেও অবস্থান করো।’ (সুরা নিসা: ৭৮)

আজকের ব্যস্ত পৃথিবীতে মানুষ দুনিয়ার কাজে এতই মগ্ন যে কবরের নির্জন আবাসের কথা ভুলেই গিয়েছে। অথচ ইসলাম মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করতে উৎসাহিত করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা সব সুখ-আনন্দকে নিঃশেষ করে দেওয়া বিষয়কে (মৃত্যু) অধিক পরিমাণে স্মরণ করো।’ (জামে তিরমিজি: ২৩০৭)। মৃত্যুর চিন্তা মানুষের অন্তর থেকে দুনিয়ার প্রতি অতিরিক্ত মোহ কমিয়ে দেয় এবং আখিরাতের প্রস্তুতির তৃষ্ণা বাড়িয়ে দেয়।

মৃত্যুর প্রস্তুতি মানে দুনিয়াকে ত্যাগ করা নয়, বরং দুনিয়াকে আখিরাতের পাথেয় বানানোর ক্ষেত্র হিসেবে গ্রহণ করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) এক অনন্য উপমা দিয়ে বলেছেন, ‘তোমরা দুনিয়ায় এমনভাবে জীবনযাপন করো যেন তোমরা একজন পরিব্রাজক অথবা পথিক।’ (সহিহ বুখারি: ৬৪১৬)। হজরত ইবনে ওমর (রা.) এই দর্শনে উদ্বুদ্ধ হয়ে বলতেন, ‘সকাল হলে সন্ধ্যার প্রতীক্ষা কোরো না, আর সন্ধ্যা হলে সকালের প্রতীক্ষা কোরো না। সুস্থ থাকা অবস্থায় অসুস্থতার জন্য এবং জীবিত অবস্থায় মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি নাও।’

কবর হলো পার্থিব জীবন ও অনন্তকালের মধ্যবর্তী প্রথম দ্বার। এটি হয়তো জান্নাতের একটি সবুজ বাগান হবে, নতুবা জাহান্নামের আগুনের একটি গর্ত। হজরত উসমান (রা.) যখন কোনো কবরের পাশে দাঁড়াতেন, তখন এত বেশি কাঁদতেন যে তাঁর দাড়ি ভিজে যেত। লোকজন কারণ জানতে চাইলে তিনি নবীজির (সা.) একটি হাদিস শুনিয়ে বলতেন, ‘কবর আখিরাতের প্রথম মঞ্জিল। যদি কেউ এখান থেকে মুক্তি পায়, তবে পরবর্তী ধাপগুলো তার জন্য সহজ হয়ে যায়; আর যদি এখান থেকে মুক্তি না পায়, তবে পরবর্তী ধাপগুলো আরও কঠিন হয়।’ (জামে তিরমিজি: ২৩০৮)

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মৃত্যুকে সবচেয়ে বেশি স্মরণ করে এবং তার জন্য সবচেয়ে ভালো প্রস্তুতি নেয়, সেই প্রকৃত বুদ্ধিমান।’ মৃত্যুর প্রস্তুতির অর্থ হলো—কৃত গুনাহের জন্য আন্তরিক তওবা করা, ফরজ ইবাদতগুলো যথাযথ পালন করা, সুন্নতের রঙে জীবন রাঙানো, অন্যের হক আদায় করা এবং কিছু ‘সদকায়ে জারিয়া’ বা প্রবহমান সওয়াবের কাজ রেখে যাওয়া। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, মানুষের মৃত্যুর পর তার আমলনামার সব দরজা বন্ধ হয়ে যায়, শুধু তিনটি মাধ্যম ছাড়া: ১. সদকায়ে জারিয়া ২. উপকারী জ্ঞান (ইলম) ৩. নেক সন্তানের দোয়া। (মুসলিম: ১৬৩১)

আসুন, আমরা প্রতিদিন অন্তত কিছু সময়ের জন্য হলেও মৃত্যু ও কবরের নির্জনতার কথা ভাবি। এই ভাবনা আমাদের অন্তরকে নরম করবে, পাপ থেকে দূরে রাখবে এবং মহান রবের সামনে দাঁড়ানোর শক্তি জোগাবে।

শিক্ষক, দারুল উলুম মকবুলিয়া মাদ্রাসা, দেবিদ্বার, কুমিল্লা।

পণ্য মজুতদারি ও সিন্ডিকেট: ইসলামের সতর্কবার্তা

আজকের নামাজের সময়সূচি: ১০ জানুয়ারি ২০২৬

জুমার দিন সুরা কাহাফ পাঠ করলে যে সওয়াব

দোয়া কবুলের অন্যতম মাধ্যম দরুদ পাঠ

শিশুদের খেলার সঙ্গী হতেন নবীজি (সা.)

আয়-উপার্জনে বরকত ও ঋণমুক্তির আমল

প্রাণীর প্রতি সহানুভূতির সওয়াব ও নির্মমতার শাস্তি

আজকের নামাজের সময়সূচি: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬

পবিত্র কোরআনে কলমের বন্দনা

নবীজির জীবন থেকে কৃতজ্ঞ বান্দা হওয়ার শিক্ষা