হোম > ইসলাম

ব্যবসায় প্রতারণা করায় যে জাতির জন্য এসেছিল ভয়াবহ আজাব

ইফতেখারুল হক হাসনাইন

প্রতীকী ছবি

প্রাচীন আরবের সমৃদ্ধ জনপদ মাদইয়ান ব্যবসা-বাণিজ্যে উন্নত হলেও তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবন ছিল ঘোর নৈতিক অবক্ষয়ে নিমজ্জিত। তাদের সংশোধনে আল্লাহ তাআলা হজরত শুআইব (আ.)-কে পাঠান। তিনি তাদের এক আল্লাহর ইবাদতের পাশাপাশি ব্যবসায় সততা বজায় রাখা ও ওজনে কম না দেওয়ার আহ্বান জানান।

মাদইয়ানবাসীর মূল অপরাধ ছিল তারা কেনাকাটার সময় ওজনে কম দিত এবং অন্যায্যভাবে অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করত। শুআইব (আ.) তাদের সতর্ক করে বলেন, ‘তোমরা মাপ ও ওজন পূর্ণ করো, মানুষের প্রাপ্য কম দিয়ো না এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি কোরো না।’ (সুরা আরাফ: ৮৫)

কিন্তু মাদইয়ানের অহংকারী জনগোষ্ঠী নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থকে আঁকড়ে ধরে বলে, ‘আমরা আমাদের সম্পদে যা ইচ্ছা তা-ই করব।’ তারা ধর্মকে বাজার থেকে আলাদা মনে করত। কিন্তু ইসলাম শেখায়—মসজিদের আল্লাহভীতিকে বাজারের লেনদেনেও বজায় রাখতে হবে।

কোরআন মাপে কম দেওয়াকে কেবল ব্যক্তিগত প্রতারণা নয়, বরং সমাজে অনাচার ও অনাস্থা ছড়িয়ে দেওয়ার বড় কারণ বা ফ্যাসাদ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। এ ছাড়া মাদইয়ানবাসী সামাজিক জুলুম, পথচারীদের ভয় দেখানো এবং সত্যের দাওয়াতদাতাদের হুমকি দেওয়ার মতো অপরাধে লিপ্ত ছিল।

শুআইব (আ.) ধৈর্য ধরে তাদের শোধরাতে চেয়ে বলেছিলেন, ‘আমি কেবল আমার সামর্থ্য অনুযায়ী সংস্কার চাই।’ কিন্তু তারা নবী ও তাঁর বিশ্বাসী অনুসারীদের দেশান্তরী করার হুমকি দেয়। অতঃপর তাদের ওপর নেমে আসে ভয়াবহ ঐশ্বরিক গজব। ভূকম্পন ও মেঘের ছায়ার আজাবে পুরো জনপদ নিমেষেই স্তব্ধ হয়ে যায়।

মাদইয়ানের এই মর্মান্তিক পরিণতি আজকের ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও উদ্যোক্তাদের জন্য এক চিরন্তন বার্তা। প্রযুক্তি বা কৌশলের আড়ালে মানুষকে ফাঁকি দেওয়া গেলেও আল্লাহর হিসাব থেকে রেহাই পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। মানুষের হক মেরে অর্জন করা কোনো সম্পদে কল্যাণ থাকে না—মাদইয়ানের ইতিহাস সে কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।