প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমের ওপর প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ রুকন হলো সিজদা। রুকুর পর জমিনে উপুড় হয়ে দুই হাঁটু, কপাল, নাক ও দুই হাতের তালু মাটিতে ঠেকিয়ে আল্লাহর সামনে নিজেকে সমর্পণ করাই হলো সিজদা। এর মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি বান্দার সর্বোচ্চ আনুগত্য ও বিনয় প্রকাশ পায়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বান্দা যখন সিজদায় থাকে, তখন সে তার রবের সবচেয়ে বেশি নিকটবর্তী হয়। অতএব, তোমরা সিজদায় বেশি বেশি দোয়া করো।’ (সহিহ মুসলিম: ৪৮২)
অনেক সময় মুসল্লিদের মধ্যে একটি প্রশ্ন দেখা যায়, অনেকে সিজদায় কপাল মাটিতে রাখলেও নাক মাটিতে স্পর্শ করান না।
ইসলামবিষয়ক গবেষকদের মতে, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো কারণ ছাড়া জমিনে নাক না লাগিয়ে শুধু কপালের ওপর সিজদা করেন, তবে তাঁর ফরজ সিজদা আদায় হয়ে যাবে এবং নামাজ বাতিল হবে না। কিন্তু উপযুক্ত কারণ (যেমন জখম বা অসুস্থতা) ছাড়া ইচ্ছা করে নাক মাটিতে না ঠেকানো মাকরুহ বা অপছন্দনীয়। তাই এ ধরনের অভ্যাস থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।
কপালের পাশাপাশি নাকও শক্তভাবে মাটিতে মিলিয়ে রাখা সুন্নতে মুআক্কাদাহ। এ ক্ষেত্রে সিজদার সঠিক অঙ্গ ও রূপরেখা নিয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিসের দিকে লক্ষ করা যায়।
হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমাকে সাতটি অঙ্গের ওপর সিজদা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—কপাল (তিনি হাত দিয়ে নাকের দিকে ইশারা করে নাককেও এর অন্তর্ভুক্ত করেন), উভয় হাত, উভয় হাঁটু এবং উভয় পায়ের প্রান্ত।’
(সহিহ বুখারি ও মিশকাতুল মাসাবিহ: ৮৮৭)
হজরত আবু হুমাইদ (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘নবী করিম (সা.) যখন সিজদা করতেন, তখন তিনি কপাল ও নাক সুন্দরভাবে মাটির ওপর রাখতেন এবং উভয় পার্শ্বদেশ থেকে নিজের দুই হাত পৃথক রাখতেন।’ (জামে তিরমিজি: ২৭০)