হোম > ইসলাম

যাঁর আগমন ছিল সমগ্র মানবজাতির জন্য রহমত

ফয়জুল্লাহ রিয়াদ

ছবি: সংগৃহীত

মানবসভ্যতার ইতিহাসে এমন অনেক মনীষীর আবির্ভাব ঘটেছে, যাঁরা কোনো জাতি, অঞ্চল, সম্প্রদায় কিংবা বিশেষ কাজের কল্যাণে স্মরণীয় হয়ে আছেন। কিন্তু মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমন ছিল সমগ্র পৃথিবীর মানুষের জন্য আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ। তাঁর নবুওয়াত কোনো ভূখণ্ডের সীমারেখায় আবদ্ধ ছিল না। তাঁর দয়া ও কল্যাণ বিশ্বমানবতার জন্য অনুকরণীয় আদর্শ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসুলের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ।’ (সুরা আহজাব: ২১)

রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন একসময়ে পৃথিবীতে আগমন করেন, যখন মানবতা জাহেলিয়াতের অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। শক্তিমান দুর্বলের ওপর অত্যাচার করত, নারীর মর্যাদা ছিল বিপন্ন, দাসের কোনো মানবিক অধিকার ছিল না এবং গোত্রগত বিদ্বেষে সামান্য ঘটনায় বছরের পর বছর রক্ত ঝরত। সেই অন্ধকার যুগে তিনি নিয়ে এলেন ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানবমর্যাদার আলোকিত শিক্ষা। মানুষের পরিচয়কে বংশ, বর্ণ ও সম্পদের গণ্ডি থেকে মুক্ত করে তিনি তাকওয়াকে মর্যাদার প্রকৃত মানদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করলেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন পৃথিবীর জন্য আল্লাহর সবচেয়ে বড় রহমত। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি।’ (সুরা আম্বিয়া: ১০৭) নবীজি (সা.)-এর রহমত কেবল তাঁর অনুসারীদের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল না। শত্রুর প্রতিও তাঁর আচরণ ছিল ক্ষমা ও উদারতায় পরিপূর্ণ। মক্কা বিজয়ের দিন দীর্ঘ নির্যাতনকারী শত্রুদের প্রতিশোধ নেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তিনি সাধারণ ক্ষমার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। তায়েফের মানুষের কঠোর নির্যাতনের মুখেও তিনি তাদের ধ্বংস কামনা না করে হিদায়াতের আশা করেছিলেন। তাঁর হৃদয় ছিল এমন কোমল, যেখানে মানুষের জন্য কল্যাণের আকাঙ্ক্ষাই ছিল সর্বাধিক প্রবল।

নবীজি (সা.)-এর শিক্ষা মানুষের পার্থিব জীবনকেও করেছে সুন্দর এবং পরকালীন জীবনের জন্যও দেখিয়েছে মুক্তির পথ। তাই তাঁর জীবন ও আদর্শ যত বেশি মানুষের জীবনে প্রতিফলিত হবে, ততই সমাজ থেকে হিংসা ও অবিচার দূর হয়ে শান্তি, সৌহার্দ্য ও মানবতার সুবাস ছড়িয়ে পড়বে।

লেখক: মুহাদ্দিস, জামিয়া আরাবিয়া দারুস সুন্নাহ রাজাবাড়ী, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।