হোম > ইসলাম

ক্ষমার আদর্শ ও মানবিক সৌন্দর্য

সাকী মাহবুব

প্রতীকী ছবি

ক্ষমা ইসলাম ধর্মের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নৈতিক গুণ ও সুমহান সৌন্দর্যের প্রতীক। ‘ক্ষমা’ শব্দের মূল আরবি প্রতিশব্দ হলো ‘আফওয়ান’, যার অর্থ মাফ করা, অপরাধের শাস্তি এড়িয়ে মার্জনা করা কিংবা প্রতিশোধ নেওয়ার পূর্ণ সক্ষমতা সত্ত্বেও দোষত্রুটি মার্জনা করা। ইসলামে ক্ষমাপ্রদর্শনকে দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা করা হয় না; বরং এটি আত্মসংযম, সাহসিকতা, উদারতা ও উন্নত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের বহিঃপ্রকাশ।

পবিত্র কোরআন ও হাদিসে ক্ষমার সুউচ্চ মর্যাদা ও মহত্ত্ব স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সুরা আরাফের ১৯৯ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন, ‘তুমি ক্ষমাশীলতার নীতি অবলম্বন করো, সৎকাজের নির্দেশ দাও এবং অজ্ঞদের এড়িয়ে চলো।’

সুরা আলে ইমরানের ১৩৪ নম্বর আয়াতে সৎকর্মশীল মুমিনদের গুণাবলি বর্ণনা করতে গিয়ে আল্লাহ বলেন, আর যারা নিজেদের রাগ সংবরণ করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে; মূলত আল্লাহ সৎকর্মশীলদেরই ভালোবাসেন।’

প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও যারা অকাতরে ক্ষমা করে দেয়, মহান আল্লাহ তাদের জন্য সুসংবাদ ও মহা প্রতিদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ক্ষমা ও উদারতার ইতিহাসে সবচেয়ে কালজয়ী ও বাস্তব দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। সুদীর্ঘ ১৩ বছর ধরে মক্কার ভূমিতে কাফেরদের অমানুষিক নির্যাতন, স্বজন হারানো এবং স্বদেশের মায়া ত্যাগের মতো কঠিন জুলুম সহ্য করেছিলেন তিনি। কিন্তু পরে ঐতিহাসিক মক্কা বিজয়ের দিনে বিজয়ী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে প্রবেশ করে শত অত্যাচারী শত্রুকে সামনে পেয়েও তিনি কোনো প্রতিশোধ নেননি। অসীম মমতায় সেদিন তিনি ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছিলেন. ‘আজ তোমাদের বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই; যাও, তোমরা সবাই স্বাধীন ও মুক্ত!’

ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে ক্ষমার ইতিবাচক প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। এটি মানুষের আত্মিক অহংকার ও অন্তরের হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে মনকে প্রসন্ন করে। সমাজে বিদ্যমান কলহ, সংঘাত ও দূরত্ব ঘুচিয়ে পারস্পরিক সৌহার্দ্যের সেতু গড়ে তোলার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম হলো মার্জনা। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি অন্যকে ক্ষমা করে, আল্লাহ তাআলা তার সামাজিক ও আত্মিক মর্যাদা বহুগুণ বাড়িয়ে দেন।’ (সহিহ মুসলিম)