সানা আরবি শব্দ, যার অর্থ হলো প্রশংসা বা স্তুতি। ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, নামাজের শুরুতে আল্লাহর গুণগান গাওয়ার যে বিশেষ দোয়া আছে, তাকে সানা বলা হয়। সানা পাঠ করা সুন্নতে মুআক্কাদা। একাকী নামাজ আদায়কারী হোক বা জামাতে—ইমাম ও মুক্তাদি সবার জন্যই সানা পড়া সুন্নত।
রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজ শুরু করার সময় এই দোয়া পাঠ করতেন:
আরবি:
سُبْحَانَكَ اَللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلَا اِلَهَ غَيْرُكَ
উচ্চারণ: ‘সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, ওয়া তাবারাকাসমুকা, ওয়া তাআলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুক।’
অর্থ: ‘হে আল্লাহ, আমি আপনার সপ্রশংস পবিত্রতা বর্ণনা করছি। আপনার নাম অতি বরকতময়। আপনি সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী এবং আপনি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই।’ (সুনানে আবু দাউদ: ২৪৩; জামে তিরমিজি: ২৪২)
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) মাঝেমধ্যে দীর্ঘ একটি দোয়াও সানার স্থলে পাঠ করতেন। দোয়াটি হলো—
اللَّهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَايَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ، اللَّهُمَّ نَقِّنِي مِنْ خَطَايَايَ كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الأَبْيَضُ مِنْ الدَّنَسِ، اللَّهُمَّ اغْسِلْنِي مِنْ خَطَايَايَ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ
উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা বায়িদ বাইনি ওয়া বাইনা খাতায়া-য়া। কামা বায়াদতা বাইনাল মাশরিকি ওয়াল মাগরিব। আল্লাহুম্মা নাক্কিনি মিনা খাতায়া-য়া কামা ইউনাক্কিছ ছাউবুল আব ইয়াদু মিনাদ দানাস। আল্লাহুম্মাগ সিলনি মিন খাতায়া-য়া বিলমায়ি ওয়াছ ছালজি ওয়াল বারাদ।’
অর্থ: ‘হে আল্লাহ, আপনি আমার ও আমার পাপের মাঝে এমন দূরত্ব সৃষ্টি করে দিন, যেমন দূরত্ব সৃষ্টি করেছেন পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে। হে আল্লাহ, আমাকে পাপ থেকে এমনভাবে পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন করুন, যেভাবে সাদা ধবধবে কাপড়কে নোংরা থেকে পরিচ্ছন্ন করা হয়। হে আল্লাহ, আমার পাপরাশিকে পানি, বরফ ও শিলা দিয়ে ধৌত করে দিন।’ (সহিহ্ বুখারি: ১/২৫৯; সহিহ্ মুসলিম: ১/৪১৯)
সানা পাঠের মাধ্যমে নামাজের শুরুতেই আল্লাহর মাহাত্ম্য ঘোষণা করা হয়। এই সুন্নতের সঠিক প্রয়োগ আমাদের নামাজকে আরও সুন্দর ও অর্থবহ করে তোলে। তাই তাড়াহুড়ো না করে নামাজের প্রতিটি আরকান ও সুন্নত নিয়ম অনুযায়ী পালন করা উচিত।