গ্যাসসহ জ্বালানির সংকট ও বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে নাকাল দেশ। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ভুগছে শিল্প খাতও। সংকট সমাধানে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এসব নিয়ে কথা বলেছেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আজকের পত্রিকার ফয়সাল আতিক।
প্রশ্ন: গ্যাস ও বিদ্যুৎ-সংকট পরিস্থিতি দীর্ঘ হওয়ার কারণে মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। সরকার বিষয়টি কীভাবে দেখছে?
উত্তর: দেশে গ্যাস-সংকট আগে থেকেই ছিল। এখন সাগরে ভাসমান একটি এলএনজি টার্মিনাল বিকল হওয়ায় সেই সংকট আরও বেড়েছে। এটা আমরা স্বীকার করি, মানুষের যে কষ্ট হচ্ছে, সেটাও সত্য। কিন্তু এ ধরনের দুর্ঘটনা অসম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ (গতকাল) সকালেও এ বিষয়ে বৈঠক করেছেন, অগ্রগতির খোঁজখবর নিয়েছেন।
নানান ব্যস্ততার মধ্যেও গ্যাস-বিদ্যুৎ পরিস্থিতি উনার দিনের কর্মসূচির অগ্রাধিকারে।
কিন্তু এখানে একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে এই খাতে ঘটে যাওয়া লুটপাট, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার মাশুল এখন জনগণকে দিতে হচ্ছে। বিষয়গুলো ইতিমধ্যে গণমাধ্যমে বিভিন্ন বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদনের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে। তবু আমরা চাচ্ছি, যত দ্রুত সম্ভব পরিস্থিতির উন্নতি করা যায় এবং জনগণকে স্বস্তি দেওয়া যায়।
প্রশ্ন: বিকল টার্মিনাল মেরামতে এত বেশি সময় লাগছে কেন?
উত্তর: এফএসআরইউ বাংলাদেশের জন্য নতুন প্রযুক্তি, নতুন অভিজ্ঞতা। আমাদের প্রকৌশলীদের এফএসআরইউ নিয়ে অভিজ্ঞতার অভাব রয়েছে। তাই এক্সিলারেট এনার্জি তাদের বিদেশি প্রকৌশলীদের এনে মেরামতের কাজে যুক্ত করেছে। তারা যে চেষ্টা করছে, সেটার অগ্রগতি প্রতিমুহূর্তে আমাদের জানাচ্ছে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ইতিমধ্যে ৬০ জন প্রকৌশলী মেরামতের কাজে যুক্ত হয়েছেন। গতকাল এফএসআরইউর একটি বয়লার মেরামত সম্পন্ন করা হয়েছিল। কিন্তু চূড়ান্ত পরীক্ষা করার সময় আবার কিছু অসংগতি ধরা পড়ে। ফলে চালু করা যায়নি। আশা করা যাচ্ছে, আরেকবার পরীক্ষা শেষে চলতি সপ্তাহে আংশিক চালু করা যাবে।
প্রশ্ন: চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ-সংকট সমাধানে সরকারের পরিকল্পনা কী?
উত্তর: জ্বালানি পরিস্থিতিতে ইতিবাচক কোনো পরিবর্তন আনতে হলে অবশ্যই লম্বা সময় লাগবে। এগুলো রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব নয়। অন্তত সরকারের এই মেয়াদের শেষ দিকে যেন গ্যাস-বিদ্যুৎ নিয়ে মানুষের মধ্যে স্বস্তি আসে, আমরা সেই পরিকল্পনা নিয়ে আগাচ্ছি।
আমরা মূলত জ্বালানির ঘাটতি পূরণে বহুমুখী বিকল্প উৎস নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করছি। প্রথমত, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে অফশোর বিডিংয়ে হাত দিয়েছি। পাশাপাশি অনশোর বিডিংয়ের প্রস্তুতিও চলছে। এলএনজি আমদানির পাশাপাশি আইএসও ট্যাংকারের মাধ্যমে ছোট আকারের কার্গোতে শিল্পাঞ্চলগুলোয় এলএনজি সরবরাহ করা যায় কি না, সেই চেষ্টা চলছে।
এ ছাড়া ভোলার গ্যাসকে অন্য কোনো উপায়ে জাতীয় চাহিদা পূরণের কাজে লাগানো যায় কি না, সেটাও ভাবা হচ্ছে। সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানোর দিকে আমরা নজর দিয়েছি। গ্যাসের আমদানি বাড়িয়ে বন্ধ গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সচল রাখার চেষ্টা চলছে। এতে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ কমবে এবং বিশাল ভর্তুকির চাপ থেকে সরকার কিছুটা হলেও রক্ষা পাবে।
প্রশ্ন: মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানির কথা শোনা যাচ্ছে; অগ্রগতি কতটা?
উত্তর: মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানির বিষয়টি আমরা তাদেরকে জানালাম। ইতিবাচক উত্তরও পেলাম। এখন মন্ত্রিপর্যায়ে বৈঠক করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে। বিকল্প উৎস হিসেবে মিয়ানমার আমাদের জন্য খুবই উপযোগী হতে পারে।
প্রশ্ন: পেট্রোনাস যে প্রস্তাব এনেছিল, তার অগ্রগতি কী?
উত্তর: এলএনজি আমদানির বিষয়ে আজ (গতকাল সোমবার) বিকেলে পেট্রোনাসের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় জুম মিটিং হবে। মূলত বাংলাদেশ পেট্রোনাসের কাছে সহায়তা চেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে প্রস্তাব দিয়েছেন। পেট্রোনাস ইতিমধ্যে চীনসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে গ্যাস রপ্তানিতে যুক্ত। তাদের বর্তমান সক্ষমতা থেকেই বাংলাদেশের জন্য কিছু একটা করার চেষ্টা করছে পেট্রোনাস।
প্রশ্ন: এসপিএমের অপারেটর নিয়োগের উদ্যোগ চলছে। এর অগ্রগতি কতটা?
উত্তর: মহেশখালীতে স্থাপিত সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং বা এসপিএম দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে। সরকার দায়িত্বে এসেই এর অপারেটর নিয়োগে দরপত্র ও অন্যান্য বিষয় ত্বরান্বিত করেছে। এখন এসপিএম পরিচালনার জন্য আগ্রহী অপারেটরদের প্রস্তাবগুলো মূল্যায়ন পর্যায়ে রয়েছে।