সাক্ষাৎকার

আস্থা ফেরানোই বড় অর্জন

শেখ হাসিনা সরকারের আমলে অর্থনীতির অনেক ক্ষেত্রেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। সেই অবস্থা থেকে অর্থনীতিকে টেনে তোলে প্রথমে অন্তর্বর্তী সরকার এবং এখন বিএনপি সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে। সরকারের উদ্যোগ, পরিকল্পনা ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে আজকের পত্রিকার সঙ্গে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অর্থনীতিবিদ ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শাহ আলম খান।

আজকের পত্রিকা: রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে গত দুই বছরে দেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় অর্জন কী?

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র পাঁচ মাস হয়েছে। তাই এর আগের সময় নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না। এই পাঁচ মাসের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো, অর্থনীতিতে আস্থা ফিরে আসা। ব্যবসায়ী, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী, রপ্তানিকারক, আমদানিকারক, ভোক্তা ও করদাতারা আবার স্থিতিশীল পরিবেশে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন। উন্নয়ন অংশীদারদের কাছেও বাংলাদেশের অর্থনীতি নতুন করে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করেছে। নীতিগত ধারাবাহিকতা, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ও প্রণোদনামূলক উদ্যোগ এই আস্থা পুনর্গঠনে ভূমিকা রেখেছে।

আজকের পত্রিকা: মূল্যস্ফীতি কবে সহনীয় হবে?

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: অতীতে মূল্যস্ফীতি মূলত অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনার কারণে দীর্ঘস্থায়ী হয়েছিল। এখন যে চাপ রয়েছে, তার বড় কারণ মধ্যপ্রাচ্য সংকটসহ বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা। এই বাস্তবতায় আমরা শুধু চাহিদা নিয়ন্ত্রণের পথেই হাঁটছি না; উৎপাদন বাড়ানো, আমদানির সার্বিক প্রক্রিয়ার সময় কমানো এবং সরবরাহব্যবস্থা আরও কার্যকর করার ওপর জোর দিচ্ছি। বাজারে সময়মতো পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে মূল্যস্ফীতি দ্রুত আরও সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে।

আজকের পত্রিকা: জ্বালানিসংকট কতটা কাটল?

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: দায়িত্ব নেওয়ার সময় আমরা জ্বালানি খাতে বড় ধরনের সংকট পেয়েছিলাম। সেই সংকট থেকে টেকসই উত্তরণ এবং নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছি। আমাদের লক্ষ্য হলো জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থাকে আরও নির্ভরযোগ্য করা, যাতে শিল্প উৎপাদন ও বিনিয়োগে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।

আজকের পত্রিকা: উচ্চ সুদের চাপ কীভাবে কমবে?

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: দীর্ঘদিন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রধান উপায় হিসেবে নীতিসুদ হার বাড়ানো হয়েছিল। আমরা সেই একমুখী নীতি থেকে সরে এসে সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করার এবং উৎপাদন বাড়ানোর ওপর সমান গুরুত্ব দিচ্ছি। ইতিমধ্যে নীতিসুদ কমানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এটি আরও কমবে এবং এর ফলে ঋণের সুদের হারও কমবে। এতে বেসরকারি খাত চাঙা হবে, উৎপাদন, সেবা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে নতুন গতি আসবে। এগুলো প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে।

আজকের পত্রিকা: রাজস্ব সংগ্রহের ক্ষেত্রে কী পরিবর্তন এসেছে?

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও রাজস্ব আহরণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। সর্বশেষ অর্থবছরে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি প্রায় ১১ শতাংশে পৌঁছেছে, যেখানে একটা সময় তা ২ শতাংশে নেমে এসেছিল। কর প্রশাসনের সংস্কার ও ব্যবস্থাপনার ধারাবাহিক উন্নয়নের মাধ্যমে এর সুফল ধীরে ধীরে আরও দৃশ্যমান হবে।

আজকের পত্রিকা: দারিদ্র্য কমাতে সরকারের পরিকল্পনা কী?

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: দারিদ্র্য নিয়ন্ত্রণে সরকার সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি আরও সম্প্রসারিত ও কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হচ্ছে। কর্মসূচিটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে জাতীয় দারিদ্র্যের হার ৫ শতাংশ কমানো সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করছি।

আজকের পত্রিকা: বিনিয়োগ বাড়াতে কী করছেন?

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: বিনিয়োগ বাড়াতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে আরও কার্যকর করা হচ্ছে। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের অবকাঠামো নির্মাণ শুরু হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরাও আগ্রহ দেখাচ্ছেন। জ্বালানি, অবকাঠামো ও নীতিগত সহায়তা—সব মিলিয়ে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলাই এখন সরকারের অগ্রাধিকার।

জ্বালানির বহুমুখী উৎসের খোঁজ করছে সরকার: অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

গুণগত ঋণেই ব্যাংকের ভবিষ্যৎ

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ লাখ ডলারের স্কলারশিপ

রাতারাতি পরিবর্তন নয়, সামাজিক সুরক্ষায় স্বস্তি দেবে সরকার: জোনায়েদ সাকি

‘লাতিন আমেরিকার সাহিত্য বাস্তব জীবনের আরও কাছাকাছি’

সেবা প্রকাশনী বন্ধ হয়নি, নতুন করে সাজাতে পুরোনোকে ভাঙছি: মাসুমা মায়মুর

টিকা কেনা নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ইউনূসের বিশেষ সহকারী

শক্তিশালী জন্মনিবন্ধন ব্যবস্থা খুবই জরুরি: রানা ফ্লাওয়ার্স

এক হাজার কিমি খাল খনন করা হবে ১৮০ দিনে: শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি

আমার অঙ্গীকার মাদক-সন্ত্রাস নির্মূল: অনিন্দ্য ইসলাম অমিত