মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রকাশিত গোপন ইউএফও নথি ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে একটি রহস্যময় ‘আট কোনা’ উড়ন্ত বস্তুর ভিডিওকে ঘিরে ধর্মীয় মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। কিছু ধর্মীয় নেতা দাবি করছেন, ভিডিওতে দেখা বস্তুটি আসলে বাইবেলে বর্ণিত ‘স্বর্গীয় দূত’ বা দেবদূতের সঙ্গে মিল রয়েছে।
২০১৩ সালে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ইনফ্রারেড সেন্সরে ধারণ করা একটি ভিডিওতে উজ্জ্বল আট কোনা তারকার মতো বস্তুকে দেখা যায়। বস্তুটির বিভিন্ন বাহুর দৈর্ঘ্য অসমান এবং এটি অস্বাভাবিকভাবে আলো বিচ্ছুরণ করছে বলে ভিডিওতে প্রতীয়মান হয়। টেক্সাসের পাস্টর জশ হাওয়ারটনসহ কয়েকজন ধর্মীয় নেতা দাবি করেন, এটি বাইবেলের ‘ইজিকিয়েল’ গ্রন্থে বর্ণিত ভয়ংকর স্বর্গীয় সত্তার সঙ্গে বিস্ময়করভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ।
বাইবেলের ইজিকিয়েল অধ্যায়ে ‘চাকার ভেতরে চাকা’ আকৃতির এক উজ্জ্বল স্বর্গীয় সত্তার বর্ণনা রয়েছে, যা আগুনের অঙ্গারের মতো জ্বলজ্বল করত এবং ঘুরে না গিয়েও চলাচল করতে পারত। সেই বর্ণনার সঙ্গে ভিডিওর বস্তুটির মিল খুঁজে পাচ্ছেন ধর্মীয় নেতাদের অনেকে। এ নিয়ে মার্কিন কংগ্রেস সদস্য আনা পলিনাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ‘চেরুবিম’ নামের এক দেবদূতের শিল্পচিত্র পোস্ট করেছেন। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের ব্যাখ্যা ও তর্ক শুরু হয়।
তবে পরে পাস্তর হাওয়ারটন নিজেই তাঁর আগের বক্তব্য কিছুটা সংশোধন করেন। তিনি জানান, অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এটি হয়তো ক্যামেরার লেন্স ফ্লেয়ার বা অপটিক্যাল বিভ্রমের ফল। তিনি স্বীকার করেন, বিষয়টিকে অতিপ্রাকৃত হিসেবে নিশ্চিতভাবে উপস্থাপন করা বিভ্রান্তিকর হতে পারে।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প এবং মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ প্রায় ১৭০টি ইউএফও ও অজ্ঞাত উড়ন্ত ঘটনার নথি প্রকাশের নির্দেশ দেন। প্রশাসনের দাবি, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ বহু বছরের গোপন রহস্য সম্পর্কে প্রথমবারের মতো স্বচ্ছতা পাবে। প্রকাশিত নথিগুলোতে ১৯৪০-এর দশকের ‘ফ্লাইং ডিস্ক’ সংক্রান্ত প্রতিবেদনও রয়েছে।
এদিকে প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, ভিডিওটি বাস্তব সামরিক ফুটেজ হলেও বস্তুটির প্রকৃতি এখনো ‘অজ্ঞাত’। সংশয়বাদীরা বলছেন, এটি কেবল সেন্সর ত্রুটি বা ইনফ্রারেড প্রযুক্তিগত বিভ্রম হতে পারে। অন্যদিকে ট্রাম্পের সমর্থক ও ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলো বিষয়টিকে রহস্যময় আধ্যাত্মিক ঘটনার সম্ভাবনা হিসেবে দেখছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ট্রাম্পইউএফওফাইলস’ হ্যাশট্যাগে ইতিমধ্যে লাখ লাখ আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে সমালোচকদের একাংশের দাবি, রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু থেকে জনদৃষ্টি সরাতেই এই নথি প্রকাশের সময় নির্বাচন করা হয়েছে।