হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

৬২ দিন পর বৃষ্টির ফোঁটায় নেচে উঠল যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে শুকনো গ্রাম

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

বৃষ্টিতে ভিজছেন উইসলি গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ দুই নারী। ছবি: দ্য টাইমস

দীর্ঘ দুই মাস ধোঁয়াশা আর রুক্ষতার মাঝে বন্দী থাকার পর অবশেষে বহু কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি নামল যুক্তরাজ্যের সারে কাউন্টির উইসলি গ্রামে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, টানা ৬২ দিন এক ফোঁটা বৃষ্টিরও দেখা মেলেনি উইসলিতে। গ্রামের ঘাসগুলো সবুজ রং হারিয়ে তামাটে হয়ে যায়, আর রোদে পোড়া ধুলোবালি উড়ছিল বাতাসে। অবশেষে বৃষ্টি যেন গ্রামবাসীদের কাছে এক অলৌকিক আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস’ জানিয়েছে, ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি যখন উইসলি গ্রামে মাটির শুষ্কতা ছুঁয়ে যাচ্ছিল, তখন অনেককেই দেখা গেছে ঘরের জানালা খুলে, আবার অনেকে ছাতা ছাড়াই উঠানে নেমে এসে বৃষ্টির জল গায়ে মেখে নিচ্ছেন।

চলতি গ্রীষ্মে তীব্র তাপদাহ ও খরায় পুড়ছে গোটা ইউরোপ। আবহাওয়ার চরম এই শুষ্কতা পুরো যুক্তরাজ্যকে ভোগালেও উইসলি গ্রামটি যেন সবচেয়ে বেশি পুড়েছে।

জুন মাসের মাঝামাঝি থেকে আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত ওই অঞ্চলটিতে ০.২ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি। ফলে যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তরের তালিকায় এটি স্থান করে নেয় বছরের সবচেয়ে দীর্ঘ শুষ্ক অঞ্চলের একটি হিসেবে। টানা খরায় পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় স্থানীয় পানি কর্তৃপক্ষ পাইপ দিয়ে বাগানে পানি দেওয়া কিংবা গাড়ি ধোয়ার ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে বাধ্য হয়েছিল। শুকিয়ে শক্ত হয়ে যাওয়া মাটি, শুকিয়ে যাওয়া জলাশয় এবং আশপাশে দাবানলের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল গ্রামের অলিতে-গলিতে।

অবশেষে আবহাওয়ার সেই বৈরিতা কাটিয়ে বাধভাঙা বৃষ্টিতে পুরো গ্রামজুড়ে প্রাণ ফিরে এল। স্থানীয়রা বলছেন, পানির অভাব তাদের জীবনকে যেভাবে থমকে দিয়েছিল, তাতে এই বৃষ্টি শুধুই আবহাওয়া পরিবর্তন নয়, বরং স্বস্তির নিশ্বাস ফেলার এক মোক্ষম সুযোগ এনে দিয়েছে।

তবে আবহাওয়াবিদেরা সতর্ক করেছেন—দীর্ঘদিনের শুষ্ক পোড়ামাটি জল শোষণ করতে কিছুটা সময় নেবে, তাই এই স্বস্তির সঙ্গে সাময়িক সময়ের জন্য পানি জমে থাকার ঝুঁকিও রয়েছে। তবুও দুই মাসের দীর্ঘ তৃষ্ণা মেটার এই আনন্দ যেন উইসলির প্রতিটি ঘরেই এখন হাসির রেখা ফুটিয়ে তুলেছে।