হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

গ্রিনল্যান্ডে ‘স্বপ্নপূরণের’ মেয়াদহীন চুক্তি ট্রাম্পের, ‘বিনিয়োগ’ করতে পারবে কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্ররা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

মাদুরো আটক হওয়ার পরদিনই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের ঘোষণা দেন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে উল্লেখযোগ্য সামরিক উপস্থিতি গড়ে তুলবে। একই সঙ্গে দ্বীপটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ দেশগুলোকে নিজেদের ঘাঁটি তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে না। শুক্রবার এ কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন ছাড়া কোনো মার্কিন শত্রুপক্ষ গ্রিনল্যান্ডে ‘সংবেদনশীল বিনিয়োগ’ করতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, এই চুক্তির কোনো মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ নেই।

ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমার নির্দেশে আমরা ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কাজ করেছি, যাতে নিশ্চিত করা যায় যে গ্রিনল্যান্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার পূর্ণ সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের চিরকাল থাকবে।’

এর আগে শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে এই চুক্তি ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের সেই আকাঙ্ক্ষা থেকে অনেক দূরে থাকবে, যেখানে তিনি গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে নেওয়ার কথা বলে আসছেন। ১৯৫১ সালের একটি চুক্তির কারণে গ্রিনল্যান্ডের আকাশসীমায় উড্ডয়ন এবং সেখানে সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের এরই মধ্যে প্রায় পূর্ণ অধিকার রয়েছে।

তারপরও ট্রাম্পের ঘোষণা থেকে বোঝা যায়, আলোচনার ফলাফলে তিনি সন্তুষ্ট এবং অন্তত অদূর ভবিষ্যতে গ্রিনল্যান্ডের ওপর নিজের ভূখণ্ডগত দাবি আবার তুলবেন না। তিনি বিস্তারিত কিছু না জানিয়ে বলেন, খুব শিগগিরই দ্বীপটিতে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের সামরিক উপস্থিতি গড়ে তুলবে। বর্তমানে গ্রিনল্যান্ডের প্রত্যন্ত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্পেস ফোর্স ঘাঁটি রয়েছে।

ট্রাম্প লিখেছেন, ‘এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি স্বপ্নপূরণ।’

চুক্তির পরিধি এখনো স্পষ্ট নয়

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় শুক্রবার জানিয়েছে, এই চুক্তি উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার করবে। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস-ফ্রেডেরিক নিয়েলসেন এক বিবৃতিতে বলেন, এই চুক্তিতে গ্রিনল্যান্ডের স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে আর্কটিক দ্বীপটির অবস্থানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের সবার জন্য উপকারী।’

শুক্রবার রাত পর্যন্ত চুক্তির অনেক বিষয়ই স্পষ্ট ছিল না। এর মধ্যে অন্যতম হলো, এই চুক্তির ফলে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কোনো সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে কি না। ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যালের পোস্টগুলোতে আলোচনা বা চুক্তি সম্পর্কে প্রায়ই প্রেক্ষাপট ও বিস্তারিত তথ্য থাকে না।

পেন্টাগনের সাবেক কর্মকর্তা এবং বর্তমানে আটলান্টিক কাউন্সিলের থিংক ট্যাংকের সঙ্গে যুক্ত ইমরান বায়ুমি বলেন, গ্রিনল্যান্ড বা ডেনমার্কের অনুমোদন ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র সেখানে সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করতে পারলে সেটি নতুন বিষয় হবে। তবে তাঁর মতে, ‘মোটের ওপর মনে হচ্ছে, ওয়াশিংটন কূটনীতি ও সংলাপের মাধ্যমে বৃহত্তর যুক্তরাষ্ট্র-ন্যাটো সম্পর্কের ওপর চাপ না দিয়েই এসব লক্ষ্য অর্জন করতে পারত।’

গ্রিনল্যান্ডে এই চুক্তি কীভাবে গ্রহণ করা হবে, সেটিও স্পষ্ট নয়। গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। দ্বীপটির বাসিন্দারা স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেন এবং গ্রিনল্যান্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক প্রচেষ্টায় তারা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

আলাদা এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, এই চুক্তি গ্রিনল্যান্ডের বিষয়ে ওয়াশিংটনের জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগকে ‘স্থায়ীভাবে এবং সম্পূর্ণভাবে’ সমাধান করেছে। তিনি লিখেছেন, ‘গ্রিনল্যান্ড চিরকাল উত্তর আমেরিকার কৌশলগত প্রতিরক্ষা এলাকার অংশ থাকবে এবং কোনো প্রতিপক্ষকে এই এলাকা ও এর আশপাশে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে না।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা চুক্তির নির্দিষ্ট শর্ত নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, চুক্তির আওতায় ন্যাটোর সদস্য নয় এমন দেশগুলোকে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক ঘাঁটি নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোই গ্রিনল্যান্ডে নির্দিষ্ট করা হয়নি এমন ‘সংবেদনশীল বিনিয়োগ’ করতে পারবে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রিনল্যান্ডে স্থায়ীভাবে প্রবেশ, সামরিক ঘাঁটি স্থাপন ও আকাশসীমা ব্যবহারের অধিকার দিচ্ছে। গ্রিনল্যান্ড ভবিষ্যতে স্বাধীন হয়ে গেলেও এই চুক্তি কার্যকর থাকবে।