ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে চীন ও রাশিয়াকে কোনো প্রভাবশালী পক্ষ বা ‘ফ্যাক্টর’ হিসেবে গণ্য করছে না যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ আজ বুধবার পেন্টাগনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, এই সংঘাতে বেইজিং বা মস্কোর কোনো ভূমিকা নেই এবং ওয়াশিংটনের লড়াই তাদের সঙ্গে নয়, বরং কেবল ইরানের সঙ্গেই সীমাবদ্ধ।
ইরানের সঙ্গে রাশিয়া ও চীনের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং মস্কোর সঙ্গে তেহরানের সামরিক যোগসূত্র থাকা সত্ত্বেও তাদের গুরুত্ব দিতে রাজি নন হেগসেথ। তিনি বলেন, ‘তাদের (রাশিয়া ও চীন) জন্য দেওয়ার মতো কোনো বার্তা আমার কাছে নেই। তারা এখানে কোনো ফ্যাক্টরও নয় এবং আমাদের সমস্যাও তাদের সঙ্গে নয়।’
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান মনোযোগ কেবল ইরানের ‘পারমাণবিক কর্মসূচি’ বন্ধ করার ওপর নিবদ্ধ। ওয়াশিংটন মনে করে, এই লক্ষ্য অর্জনেই তারা বর্তমানে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই সামরিক অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া ও চীন। মস্কোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে—এমন কোনো প্রমাণ তারা দেখেনি। অন্যদিকে, বেইজিং অবিলম্বে ইরানের ওপর হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
গত সোমবার চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। ওই সময় ওয়াং ই বলেন, চীন ও ইরানের মধ্যকার ঐতিহাসিক বন্ধুত্বকে বেইজিং অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। ইরানের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় মর্যাদা রক্ষায় চীন পূর্ণ সমর্থন জানায়। পাশাপাশি ইরানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থরক্ষায় পাশে থাকবে বেইজিং।