হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

ভারতকে ‘নরক’ বললেন ট্রাম্প, ‘কুরুচিপূর্ণ’ বলে প্রতিবাদ জানাল দিল্লি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত

ভারতকে নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিতর্কিত সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে দুই বন্ধুরাষ্ট্রের মধ্যে চরম কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ভারতকে ‘হেলহোল’ বা ‘নরককুণ্ড’ বলে অভিহিত করা একটি বক্তব্য শেয়ার করায় ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এমন মন্তব্যকে ‘অজ্ঞতাপ্রসূত এবং অরুচিকর’ বলে অভিহিত করেছে নয়াদিল্লি।

গত বুধবার ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ কট্টরপন্থী পডকাস্ট হোস্ট মাইকেল সেভেজের একটি দীর্ঘ বক্তব্য শেয়ার করেন। যুক্তরাষ্ট্রের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকারের সমালোচনা করা হয়। সেখানে মাইকেল সেভেজকে বলতে শোনা যায়, ‘এখানে একটি শিশু জন্ম নিয়ে মুহূর্তেই নাগরিক হয়ে যায়, আর তারপর তারা চীন বা ভারত বা এই গ্রহের অন্য কোনো “নরককুণ্ড” থেকে তাদের পুরো পরিবারকে নিয়ে আসে।’

ওই পোস্টে আরও অভিযোগ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতের ভারতীয় অভিবাসীরা শ্বেতাঙ্গ মার্কিনদের চাকরি দখল করছেন এবং ভারতীয়দের ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা নেই।

ট্রাম্প কোনো প্রমাণ ছাড়াই এই বর্ণবাদী ও উসকানিমূলক বক্তব্যটি শেয়ার করেন।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের এই বার্তার কড়া জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই ধরনের মন্তব্য স্পষ্টতই তথ্যহীন, অনুপযুক্ত এবং নিম্নরুচির পরিচায়ক। এগুলো ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে না, যা দীর্ঘকাল ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং অভিন্ন স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে টিকে আছে।’

ট্রাম্পের এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন রাজনীতিক ও সংগঠনগুলো। ভারতীয় অভিবাসী দম্পতির সন্তান ও কংগ্রেস সদস্য অমি বেরা বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই মন্তব্য অত্যন্ত অপমানজনক ও অজ্ঞতাপ্রসূত। যে পদের মর্যাদা তিনি রক্ষা করছেন, এটি তার সঙ্গে একেবারেই মানানসই নয়।’

অন্যদিকে ‘হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশন’ (এইচএএফ) এই বক্তব্যকে ‘ঘৃণ্য ও বর্ণবাদী’ বলে অভিহিত করেছে। তাদের মতে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে এই ধরনের বক্তব্যকে সমর্থন করায় ঘৃণা আরও উসকে দেবে এবং অভিবাসী সম্প্রদায়ের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।

ট্রাম্পের এই বিতর্কিত মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন আগামী মাসেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দ্বিপক্ষীয় উত্তেজনা প্রশমনে ভারত সফরের পরিকল্পনা করছেন। ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে অভিবাসন এবং এইচ-ওয়ান বি ভিসার ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছেন, যা মূলত ভারতীয় আইটি কর্মীদের ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে। এ ছাড়া ভারতের ওপর উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ নিয়ে আগে থেকেই দুই দেশের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক লড়াই চলছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, দশকের পর দশক ধরে ওয়াশিংটন ভারতকে চীনের পাল্টা শক্তি হিসেবে গড়ে তোলার যে কৌশল নিয়ে এগোচ্ছিল, ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত আক্রমণ সেই সম্পর্কে বড় ফাটল ধরাতে পারে। এখন দেখার বিষয় মার্কো রুবিওর আসন্ন সফরে এই কূটনৈতিক ক্ষত কতটা মেরামত করা সম্ভব হয়।

ইরান আমাদের বোকা বানাচ্ছে, আজ আবার হামলা চালাব: ট্রাম্প

৩৭ বার ইরানের সঙ্গে ‘চুক্তির’ দ্বারপ্রান্তে পৌঁছানোর দাবি ট্রাম্পের, বাস্তবতা ভিন্ন

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি হলে, না মেনে উপায় থাকবে না ইসরায়েলের: ট্রাম্প

এইচ-১বি ভিসায় ট্রাম্পের ১ লাখ ডলারের ফি অবৈধ, বাতিল

চাগোস দ্বীপপুঞ্জ কিনতে চায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যকে পাশ কাটিয়ে নতুন পরিকল্পনা ট্রাম্পের

ইরানের অর্থ উপসাগরীয় মিত্রদের দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

বাইডেনের স্ত্রীকে ৭.৫ ক্যারেটের কৃত্রিম হীরা উপহার দিয়েছিলেন মোদি

যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলি গুপ্তচরবৃত্তির হুমকিকে ‘সংকটজনক’ মাত্রায় উন্নীত করল পেন্টাগন

যুক্তরাষ্ট্রে গবাদিপশুর শরীরে মাংসখেকো মাছির প্রাদুর্ভাব, আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা কানাডার

ইরানের মাত্র ২১-২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট আছে: ট্রাম্প