২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ের পর নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিতর্কিত মন্তব্য। বেলজিয়ামের বিপক্ষে নকআউট ম্যাচের আগে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র হেরে গেলে হয়তো তিনি ম্যাচটিকে ‘পাতানো’ বলে দাবি করবেন। তাঁর এই মন্তব্য এমন একসময়ে এল, যার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি ফিফাকে অনুরোধ করে মার্কিন দলের খেলোয়াড়ের লাল কার্ড-সংক্রান্ত এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করিয়েছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফের খবরে বলা হয়েছে, ম্যাচের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প প্রথমে বলেন, বেলজিয়াম জিতলে তাঁরা ‘সত্যিই গর্বিত’ বোধ করতে পারেন। কিন্তু পরক্ষণেই তিনি যোগ করেন, ‘হয়তো আমি বলব ম্যাচটা পাতানো ছিল, ঠিক যেমন ২০২০ সালের (যুক্তরাষ্ট্রের) নির্বাচন পাতানো ছিল।’ তাঁর এই মন্তব্য মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
এর আগে ট্রাম্প স্বীকার করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনার জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। যদিও তাঁর দাবি, তিনি কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেননি, শুধু ঘটনাটি পুনরায় পর্যালোচনার অনুরোধ করেছিলেন। পরে ফিফা বালোগুনের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে, ফলে তিনি বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলতে পারেন।
তবে ট্রাম্পের এই হস্তক্ষেপ এবং পরবর্তী মন্তব্যকে ঘিরে বিশ্ব ফুটবলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। বেলজিয়ামসহ বিভিন্ন মহল ফিফার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ ওঠে।
শেষ পর্যন্ত মাঠের খেলায় কোনো নাটকীয়তা দেখাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। সিয়াটলে অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর ম্যাচে বেলজিয়াম ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে যায়। ফলে ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্যের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ও বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।