ইরানে সম্ভাব্য স্থল সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে কূটনৈতিক সময়সীমা বাড়ানোর কথা বললেও, অন্যদিকে স্থলবাহিনী মোতায়েনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে তিনি ইরানকে সময়সীমা বাড়িয়ে দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ক্যাবিনেট মিটিং শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ইরান এক সপ্তাহ সময় চেয়েছিল, তবে তিনি ১০ দিন সময় দিয়েছেন। ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে ১০টি জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার বিনিময়েই তিনি এই সময় দিয়েছেন।
তবে বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, অতিরিক্ত সময় দেওয়ার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য হতে পারে তেহরানের কাছে আরও সেনা জড়ো করা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে মার্কিন সেনা পাঠানো হয়েছে। পেন্টাগন প্রয়োজনে আরও প্রায় ১০ হাজার স্থলসেনা মোতায়েনের বিষয়েও ভাবছে, যাতে সামরিক বিকল্প বাড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সপ্তাহের শেষ দিকে—বিশেষ করে শনিবার যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, ট্রাম্প সাধারণত বাজার বন্ধ হওয়ার পর এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পছন্দ করেন।
অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল ড্যানিয়েল ডেভিস বলেন, সীমিত সংখ্যক সেনা মোতায়েনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে তিনটি সম্ভাব্য সামরিক বিকল্প থাকতে পারে। প্রথমত, হরমুজ প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা কেশম দ্বীপ দখল করা। পারস্য উপসাগরের বৃহত্তম এই দ্বীপ দিয়ে বিশ্বে প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন হয়।
দ্বিতীয় বিকল্প হতে পারে খারগ দ্বীপে হামলা চালানো। ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি এই দ্বীপের মাধ্যমে হয়।
তৃতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী ইরানের পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করা ৪০০ কেজির বেশি ইউরেনিয়াম জব্দে অভিযান চালানো হতে পারে। তবে এর আগে জরুরি সেই ইউরেনিয়ামের অবস্থান সম্পর্কে সঠিক তথ্য।
অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন নৌবাহিনীর ভাইস অ্যাডমিরাল কেভিন ডোনেগান বলেন, ‘এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হবে দুটি দ্বীপ ব্যবহারে ইরানের যে সক্ষমতা রয়েছে সেটা ধ্বংস করা।’
এদিকে, পেন্টাগনের আশপাশে একটি অস্বাভাবিক ঘটনা নতুন করে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে পেন্টাগনের আশপাশের এলাকায় পিৎজা অর্ডারের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যায়।
পেন্টাগন এলাকায় খাবার সরবরাহ পর্যবেক্ষণকারী একটি ওয়েবসাইট জানিয়েছে, ওই রাতে পিৎজা অর্ডারে ‘অস্বাভাবিক বৃদ্ধি’ দেখা গেছে। তাদের তথ্যে বলা হয়, একটি আউটলেটে অর্ডার ২৯৬ শতাংশ, অন্যটিতে ২০৮ শতাংশ এবং আরেকটিতে ২০০ শতাংশ বেড়েছে।
‘পেন্টাগন পিৎজা মিটার’ নামে পরিচিত এই অনানুষ্ঠানিক সূচকটি দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। যেখানে পেন্টাগন বা সিআইএর মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরগুলোতে গভীর রাতে অস্বাভাবিক পিৎজা ডেলিভারি বেড়ে যাওয়াকে বড় ধরনের সামরিক তৎপরতা বা আসন্ন আন্তর্জাতিক সংকটের ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হয়।
১৯৭০-এর দশকে সোভিয়েত গোয়েন্দারা রাতের খাবার সরবরাহের ধরন পর্যবেক্ষণ করে মার্কিন সামরিক তৎপরতার ইঙ্গিত পেত বলে ধারণা করা হয়। যদিও এই সূচকটি আনুষ্ঠানিক নয়, তবে অতীতে কিছু ক্ষেত্রে এটি সঠিক ইঙ্গিত দিয়েছে বলে জানা যায়।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি