হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

চাকরি হারালেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে অভিবাসী কর্মীদের—ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন প্রস্তাব

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: সংগৃহীত

চাকরি হারানোর পর নতুন স্পনসর খুঁজে নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কিছু ক্যাটাগরির অভিবাসী, বিশেষ করে এইচ-১বি ভিসাধারী দক্ষ কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যাওয়ার যে ৬০ দিনের সুযোগ রয়েছে, তা বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। স্থানীয় সময় গকতাল বৃহস্পতিবার অনলাইনে প্রকাশিত সরকারি এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

প্রস্তাবিত এই নিয়ম পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশ করেছে। নিয়মটি কার্যকর হলে এইচ-১বি এবং আরও কিছু অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিসাধারীদের চাকরি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে। এতে বিদেশি কর্মীদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে পারে।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় দফায় দায়িত্ব নেওয়ার পর বৈধ অভিবাসন সীমিত করতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর মধ্যে এটি সর্বশেষ। তাঁর প্রশাসন দক্ষ কর্মীদের জন্য ভিসার ফি বাড়িয়েছে। সম্প্রতি নতুন একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন মিশনগুলোতে অভিবাসী ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্টও স্থগিত করা হয়েছে।

প্রস্তাবে ডিএইচএস বলেছে, এই পরিবর্তনের কারণে যেসব কোম্পানি প্রভাবিত হবে—তাদের কিছুটা বিঘ্নের মুখে পড়তে হতে পারে। তবে সংস্থাটি বলেছে, এসব চাকরি এর পরিবর্তে মার্কিন কর্মীদের দেওয়া যেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে বিদেশি কর্মীরা যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাওয়ার পর তাদের নিয়োগকর্তা আবেদন করলে তারা আবারও সেই ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

নোটিশে বলা হয়েছে, ডিএইচএস ধরে নিচ্ছে, নিয়োগকর্তারা হয় সমান যোগ্যতার মার্কিন কর্মীদের একই চাকরিতে নিয়োগ দেবেন, অথবা তাদের কর্মী চাহিদার ওপর নির্ভর করে আই-১২৯ পিটিশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এগোবেন। ২০১৭ সাল থেকে চালু থাকা ৬০ দিনের এই গ্রেস পিরিয়ড বিদেশি কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে নতুন চাকরি খোঁজার অথবা দেশ ছাড়ার আগে নিজেদের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো গুছিয়ে নেওয়ার সময় দেয়। এর মধ্যে বাড়ি বিক্রি করা কিংবা সন্তানদের স্কুল থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার মতো বিষয়ও রয়েছে।

এর আগে, ১৯৯০ সালে কংগ্রেসের মাধ্যমে চালু করা এইচ-১বি ভিসা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠান ভারত ও চীন থেকে দক্ষ কর্মী নিয়োগ করতে পারে। যেসব পদে কখনো কখনো যুক্তরাষ্ট্রে পর্যাপ্ত যোগ্য কর্মী পাওয়া যায় না, সেসব পদ পূরণে এই ভিসা ব্যবহৃত হয়। ডেলয়েট, পিডব্লিউসি এবং আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ংয়ের মতো পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এবং টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস, ইনফোসিস, এইচসিএল টেক ও এলটিআইমাইন্ডট্রির মতো আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানগুলো এইচ-১বি ভিসার শীর্ষ স্পনসরদের মধ্যে রয়েছে।

ব্যবসায়িক অভিবাসনসংক্রান্ত বিষয়ে বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান বেরার্ডি ইমিগ্রেশন ল-এর আইনজীবীরা বলেছেন, এই উদ্যোগ কার্যকর হলে বিদেশি নাগরিক কর্মীদের ছাঁটাই এবং চাকরি থেকে বিদায়ের প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য মানবসম্পদ (এইচআর) ব্যবস্থাপনা গ্রুপগুলোর হাতে থাকা সময় ‘ব্যাপকভাবে কমে যাবে।’ প্রস্তাবটি কার্যকর হলে শুধু এইচ-১বি ভিসাধারীরাই নয়, আরও কয়েক ধরনের ভিসাধারীও এর আওতায় পড়বেন।

এর মধ্যে থাকবে ই-১ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক পণ্য ব্যবসায়ীদের ভিসাধারী, ই-২ বাণিজ্যিক যানবাহন পরিচালনাকারীদের ভিসাধারী, আন্তর্জাতিক কোম্পানিতে নির্বাহী বা ব্যবস্থাপকদের স্বল্পমেয়াদি কাজের জন্য দেওয়া এল-১ ভিসাধারী, বিজ্ঞান, ক্রীড়া বা শিল্পকলায় ‘অসাধারণ দক্ষতা’ থাকা ব্যক্তিদের জন্য দেওয়া ও-১ ভিসাধারী এবং টিএন পেশাজীবী কর্মীরা। এ ছাড়া সিঙ্গাপুর ও চিলির দক্ষ কর্মীদের জন্য দেওয়া এইচ-১ বি ১ ভিসাধারী এবং অস্ট্রেলিয়ার বিশেষায়িত কর্মীদের জন্য দেওয়া ই-৩ ভিসাধারীরাও এই পরিবর্তনের আওতায় পড়বেন।

তবে প্রস্তাবিত নিয়মটি এখনই কার্যকর হচ্ছে না। আইন হিসেবে কার্যকর হওয়ার আগে এ বিষয়ে দুই মাসের জন্য জনসাধারণের মতামত নেওয়া হবে।