হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

এবার রুশ সংযোগের তথ্য, পুতিনের সঙ্গেও কি দেখা হয়েছিল এপস্টেইনের

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

কুখ্যাত জেফ্রি এপস্টেইন (বাঁয়ে) ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত বিনিয়োগকারী ও যৌন নিপীড়ন কেলেঙ্কারির কেন্দ্রে থাকা জেফ্রি এপস্টেইন রাশিয়ার উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ থেকে প্রকাশিত নতুন নথি থেকে এমন তথ্য উঠে এসেছে। এসব নথিতে দেখা যায়, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভসহ একাধিক প্রভাবশালী রুশ ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে এপস্টেইন ধারাবাহিকভাবে চেষ্টা চালিয়েছিলেন।

নথি অনুযায়ী, ২০১৮ সালের জুনে এপস্টেইন নরওয়ের রাজনীতিক থর্বইয়র্ন ইয়াগল্যান্ডকে ইমেইল করেন। ইয়াগল্যান্ড তখন ইউরোপ কাউন্সিলের মহাসচিব। ওই ইমেইলে এপস্টেইন লেখেন—তিনি চান পুতিনকে একটি বার্তা পৌঁছে দেওয়া হোক, যাতে লাভরভ তাঁর সঙ্গে কথা বলার আগ্রহ দেখান। ইমেইলে এপস্টেইন উল্লেখ করেন, রাশিয়ার প্রয়াত জাতিসংঘ রাষ্ট্রদূত ভিতালি চুরকিন তাঁর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। চুরকিনের মৃত্যুর পর এপস্টেইন নতুন রুশ সংযোগ খুঁজছিলেন।

জবাবে ইয়াগল্যান্ড জানান, তিনি লাভরভের সহকারীর সঙ্গে দেখা করবেন এবং বিষয়টি তুলবেন। এর প্রতিক্রিয়ায় এপস্টেইন লেখেন, চুরকিন বিষয়গুলো ভালো বুঝতেন এবং রাজনীতিতে ‘দেওয়া–নেওয়ার’ সম্পর্কটাই মূল। বিশ্লেষকদের মতে, এসব বার্তায় এপস্টেইন নিজেকে এক ধরনের ভূরাজনৈতিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছিলেন।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সিএনএন জানিয়েছে, সম্ভাব্য রুশ সংযোগের নথিগুলো প্রকাশের পর এপস্টেইনের উদ্দেশ্য নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক বলেছেন, তাঁর দেশ এপস্টেইনের সঙ্গে রুশ গোয়েন্দা সংস্থার সম্ভাব্য সম্পর্ক খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করবে। টাস্ক দাবি করেন, বৈশ্বিক গণমাধ্যমে পাওয়া তথ্য থেকে সন্দেহ জোরালো হচ্ছে, এই নজিরবিহীন শিশু যৌন-নিপীড়ন কেলেঙ্কারিতে রুশ গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকা থাকতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘যদি তা সত্য হয়, তবে বর্তমান অনেক নেতার বিরুদ্ধেই আপত্তিকর তথ্য রুশদের হাতে থাকতে পারে।’

তবে ক্রেমলিন এসব অভিযোগ নাকচ করেছে। প্রেসিডেন্ট পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, এপস্টেইন রুশ গোয়েন্দাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিলেন—এই তত্ত্বটি গুরুত্ব দেওয়ার মতো কিছু নয়। সাংবাদিকদের তিনি এসব অভিযোগ নিয়ে ‘সময় নষ্ট না করার’ পরামর্শ দেন।

নথিতে দেখা যায়, ২০১৩ সালেও এপস্টেইন পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি সাবেক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাককে জানিয়েছিলেন, ইয়াগল্যান্ড পুতিনের সঙ্গে দেখা করবেন এবং রাশিয়ায় পশ্চিমা বিনিয়োগ বাড়ানোর কাঠামো ব্যাখ্যা করতে এপস্টেইন আগ্রহী।

একটি ইমেইলে এপস্টেইন দাবি করেন, পুতিনের সঙ্গে দেখা করতে হলে তিনি কমপক্ষে দুই থেকে তিন ঘণ্টার গোপন সময় চান। যদিও এই সাক্ষাৎ আদৌ হয়েছিল কি না, এর কোনো প্রমাণ নেই।

২০১৪ সালে আরেক ইমেইলে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, পুতিনের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য বৈঠকে যোগ দিতে লিংকডইনের প্রতিষ্ঠাতাকে আমন্ত্রণ জানানোর চেষ্টা করেছিলেন এপস্টেইন।

এপস্টেইনের রুশ যোগাযোগের একটি সংবেদনশীল দিক হলো, রুশ নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা। নথিতে উল্লেখ আছে, তিনি সের্গেই বেলিয়াকভকে ‘খুব ভালো বন্ধু’ বলেছিলেন। বেলিয়াকভ রাশিয়ান ফেডারেশনের ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস (এফএসবি) একাডেমির স্নাতক এবং সেন্ট পিটার্সবার্গ ইকোনমিক ফোরামের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। এপস্টেইন তাঁকে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন।

আরেক ঘটনায়, ২০১৫ সালে এপস্টেইন বেলিয়াকভকে লেখেন, মস্কোর এক নারী নিউইয়র্কে ‘বড় ব্যবসায়ীদের’ ব্ল্যাকমেল করার চেষ্টা করছেন। তিনি ওই নারীর অবস্থান জানিয়ে পরামর্শ চান।

রুশ অলিগার্ক (ক্ষমতা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত অভিজাত শ্রেণির ব্যক্তি) ওলেগ দেরিপাস্কার বিষয়েও পরামর্শ দিয়েছেন বলে এক ইমেইলে দাবি করেন এপস্টেইন। তিনি এই বিষয়ে স্টিভ ব্যাননকেও অবহিত করেন। তবে দেরিপাস্কার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে এপস্টেইনকে চিনতেন না।

এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ রুশদের মধ্যে ছিলেন ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট মাশা দ্রোকোভা বুচারও। তিনি ২০১৭ সালে এপস্টেইনের জনসংযোগে কাজ করতেন এবং তাঁর কাছ থেকে সহায়তা পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। বুচার আগে পুতিনপন্থী যুব সংগঠন ‘নাশি’র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যদিও পরে তিনি রুশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন।

ভ্রমণ নথি অনুযায়ী, এপস্টেইন অন্তত একবার রাশিয়া সফর করেছেন। ২০০২ সালে তিনি ও তাঁর সঙ্গী গিলেইন ম্যাক্সওয়েল মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গে গিয়েছিলেন। গ্রেপ্তারের আগে ২০১৮ ও ২০১৯ সালেও তিনি রুশ ভিসা নবায়নের চেষ্টা করেছিলেন।

সব মিলিয়ে, প্রকাশিত নথি এপস্টেইনকে এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরে, যিনি ক্ষমতা ও প্রভাবের কেন্দ্রবিন্দুতে নিজেকে স্থাপন করতে মরিয়া ছিলেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এসব যোগাযোগের পেছনে সুসংগঠিত গোয়েন্দা ভূমিকার চেয়ে ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তারের বাসনাই বেশি স্পষ্ট।

ট্রাম্পের শান্তি পরিষদের প্রথম বৈঠকের তোড়জোড়, হতে পারে ১৯ ফেব্রুয়ারি

কর্মী ছাঁটাইয়ের ‘কঠিন সিদ্ধান্তে’র পর পদ ছাড়ছেন ওয়াশিংটন পোস্টের প্রধান নির্বাহী

চীনের বিরুদ্ধে গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের, নতুন চুক্তির আহ্বান

শিগগিরই জাতিসংঘের বকেয়া পরিশোধ শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্র

তেজস্ক্রিয় বর্জ্যের ভাগাড় দরকার, দুর্বল অঙ্গরাজ্যগুলোকে প্রলোভন দেখাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

নিন্দার মুখে ওবামা দম্পতিকে ‘বানর’ দেখানোর ভিডিও সরিয়ে নিলেন ট্রাম্প

কারাগারে কী করেন এপস্টেইনের সঙ্গী গিলেইন—দেখা গেল নতুন ভিডিওতে

তবে কি এপস্টেইনই ছিলেন বিটকয়েনের রহস্যময় স্রষ্টা ‘সাতোশি’

ট্রাম্পের শেয়ার করা ভিডিওতে বানর বেশে ওবামা দম্পতি, বর্ণবাদের অভিযোগ

পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে পুতিনের প্রস্তাব নাকচ ট্রাম্পের