হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

ইরানকে স্যাটেলাইট তথ্য দিচ্ছে চীন—এমন প্রতিবেদন উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ফাইল ছবি

ইরানের হামলার আগে ও পরে জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটির স্যাটেলাইট ছবি চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো তেহরানকে সরবরাহ করেছিল বলে যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল, সেটিকে উড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্পকে বলা হয়, ‘চীন আমাদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করে।’ জবাবে তিনি বলেন, ‘আপনারা ঠিকই বলেছেন, আমরাও তাদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করি।’

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে বেইজিংয়ের গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের এক দিন পর ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘তারা মূলত আমাদের মতোই কাজ করে।’ এই ঘটনা ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। বিশেষ করে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের হোয়াইট হাউসে রাষ্ট্রীয় সফরের পরিকল্পনা রয়েছে। ওই সফরের আগে ঘটনাটি দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।

গত ১৭ জুলাই ইরান জর্ডানে অবস্থিত মুয়াফ্ফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ওই ঘাঁটিতে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছিলেন। হামলায় মার্কিন সেনাবাহিনীর তিনজন সেনা নিহত হন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে উদ্ধৃত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তারা চীনের কোন কোন প্রতিষ্ঠান এই স্যাটেলাইট ছবি সরবরাহ করেছে, তা জানাননি। একই সঙ্গে তারা বেইজিংকে সরাসরি দায়ীও করেননি।

শুক্রবার রাতে প্রকাশিত জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে চীনা কর্মকর্তাদের কাছে স্যাটেলাইট ছবি হস্তান্তরের প্রমাণ চান। এর জবাবে চীনা কর্মকর্তারা প্রমাণ দেখতে চান এবং তেহরানকে স্যাটেলাইট ছবি সরবরাহে কোনো চীনা কোম্পানি জড়িত ছিল বলে স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানান।

ট্রাম্প এর আগে চীনকে ইরানের কাছে অস্ত্র বিক্রি না করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। গত মে মাসে ওয়াশিংটন চীনে অবস্থিত তিনটি স্যাটেলাইট কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ইরানের সামরিক অভিযান পরিচালনায় সহায়তা করার অভিযোগে ওই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

চীন ইরানের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক অংশীদার। চীন ইরানের বিপুল পরিমাণ তেল কিনে থাকে। একই সঙ্গে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সমর্থকও চীন। তবে রোববার শি জিনপিং সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি যুক্তিসংগত আচরণ করেছেন, আমরাও যুক্তিসংগত আচরণ করি।’

এদিকে, চীনা গাড়ি যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রির অনুমতি তিনি কখনো দেবেন কি না, সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি দিইনি। আমিই তাদের বাইরে রেখেছি। শুল্কই তাদের বাইরে রেখেছে।’

তথ্যসূত্র: আশারক আল–আওসাত