যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হতে পারে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর। তবে চুক্তি না হলে ইরানকে ‘ধ্বংস’ করার হুমকিও দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া দীর্ঘ ভাষণে ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের বিভিন্ন সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। অর্থনীতি, অভিবাসন ও অপরাধ দমনে তাঁর প্রশাসনের পদক্ষেপের প্রশংসা করে তিনি জানান, আগের প্রশাসনের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ‘অন্ধকার যুগ’ উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছিল, যা তাঁর নেতৃত্বে ‘সোনালি যুগে’ পরিণত হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ট্রাম্পের ভাষণের বড় অংশজুড়ে ছিল ইরান প্রসঙ্গ। ট্রাম্প বলেন, তিনি কোনোভাবেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেবেন না। একই সঙ্গে তিনি বিশ্বের দেশগুলোকে ইরানের ওপর পূর্ণ অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
ট্রাম্পের ভাষায়, ইরানকে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ করতে হবে, পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করতে হবে এবং ‘সন্ত্রাসবাদে’ সমর্থন বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, একসময় ইরান মধ্যপ্রাচ্যে ‘দাপুটে শক্তি’ ছিল, কিন্তু এখন আর তা নেই।
ইরান নিয়ে নিজের সামনে থাকা বিকল্প ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ট্রাম্প জানান, তাঁর একটি ‘বড় সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার আছে। চুক্তির মাধ্যমে হয় ইরানকে পুনর্গঠনের সুযোগ দেওয়া হবে, না হয় সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে ‘দ্রুত ধ্বংস’ করা হবে।
তবে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হবে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন আগামী নভেম্বরের শুরুতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
ট্রাম্পের ভাষণের সময় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে ইরান সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভও অনুষ্ঠিত হয়। ইরানে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের দাবিতে এবং একনায়কতন্ত্রের বিরোধিতা করে বিক্ষোভকারীদের কয়েকজনকে প্ল্যাকার্ড হাতে দেখা যায়।
এদিকে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমালে ও অবরোধ প্রত্যাহার করলে এক সপ্তাহের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে তারা প্রস্তুত।