হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

আদালতে দুই বড় ধাক্কা খেল ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন অভিবাসন নীতি নিয়ে বড় দুটি ধাক্কার মুখে পড়েছে। একদিকে ফেডারেল এক বিচারক বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের জন্য প্রস্তাবিত ভিসার সময়সীমা আটকে দিয়েছেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বাধীন কয়েক ডজন অঙ্গরাজ্য অভিবাসীদের বৈধভাবে সরকারি সুবিধা নেওয়ার কারণে গ্রিন কার্ড আটকে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা নতুন বিধির বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল বিচারক প্রশাসনের এমন প্রস্তাব কার্যকর করা বন্ধ করে দেন, যার মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন না করে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হতো।

একই সময়ে ২২টি অঙ্গরাজ্য ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া মিলে আলাদা একটি মামলা করেছে। তাদের লক্ষ্য, এমন একটি ফেডারেল বিধি কার্যকর হওয়া ঠেকানো, যার আওতায় অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বৈধভাবে সরকারি সুবিধা নেওয়া অভিবাসীদের গ্রিন কার্ড দিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারবে।

আদালতে আটকে গেল ভিসার সময়সীমা

ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএসের প্রস্তাবিত বিধিটি মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই সোমবার বোস্টনের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ এফ ডেনিস সেলার চতুর্থ ট্রেড ইউনিয়ন ও উচ্চশিক্ষা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের জোটের করা আবেদনের ভিত্তিতে বিধিটির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহৃত এফ ভিসা এবং যুক্তরাষ্ট্রে সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য দেওয়া জে ভিসার মেয়াদ সর্বোচ্চ চার বছর করা হতো। অন্যদিকে সাংবাদিকদের জন্য ব্যবহৃত আই ভিসা, যা বর্তমানে কয়েক বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকতে পারে, সেটির মেয়াদ ২৪০ দিনে সীমাবদ্ধ করার প্রস্তাব করা হয়েছিল।

বিচারক সেলার রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও তিনি ভিসা ব্যবস্থায় জালিয়াতি ঠেকানো এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে ডিএইচএস যে যুক্তি দিয়েছে, সেটিকে ‘অত্যন্ত দুর্বল’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, বিদ্যমান ভিসা ব্যবস্থা কয়েক কোটি গবেষক ও শিক্ষাবিদকে যুক্তরাষ্ট্রে অবদান রাখার সুযোগ দিয়েছে। এর ফলে যুগান্তকারী গবেষণা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ হয়েছে।

এই ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হলে উচ্চশিক্ষা এবং বৃহত্তর মার্কিন অর্থনীতির ক্ষতি ‘বিপর্যয়কর’ হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থা প্রায় ১৬ লাখ এফ ভিসাধারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং প্রায় ৫ লাখ জে ভিসাধারী বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারীকে প্রভাবিত করত।

সরকারি সুবিধা নেওয়া নিয়ে নতুন বিধির বিরুদ্ধে অঙ্গরাজ্যগুলোর মামলা

এদিকে সোমবার ম্যানহাটনের একটি ফেডারেল আদালতে দুটি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলার লক্ষ্য, ডিএইচএসের আরেকটি বিধি কার্যকর হওয়া ঠেকানো। বিধিটি শুক্রবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন এই বিধিতে অভিবাসন কর্মকর্তারা কোন আবেদনকারীকে ‘পাবলিক চার্জ’ হিসেবে বিবেচনা করবেন, সেই মানদণ্ড আরও বিস্তৃত করা হবে। ‘পাবলিক চার্জ’ একটি আইনি মানদণ্ড। ঐতিহাসিকভাবে এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ করা হয়েছে, যারা নিজেদের জীবনধারণের জন্য মূলত সরকারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন বলে মনে করা হয়।

নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া ও ইলিনয় ২২টি অঙ্গরাজ্য এবং ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার একটি জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে। তারা নতুন নীতিটি আটকে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। একই বিষয়ে ছয়টি শহর ও কাউন্টিও আলাদা একটি মামলা করেছে।

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের মূল্যায়নে অভিবাসন কর্মকর্তারা নগদ সরকারি সহায়তা বিবেচনা করতে পারতেন। তবে খাদ্য সহায়তা এবং মেডিকেইডের মতো নগদ নয় এমন সরকারি সুবিধা নেওয়ার কারণে কোনো আবেদনকারীকে শাস্তি দেওয়ার সুযোগ ছিল না।

এখন ট্রাম্প প্রশাসন তার প্রথম মেয়াদের নীতিগুলো আবার চালু করতে চাইছে। সেই নীতিতে খাদ্য সহায়তা ও মেডিকেইডের মতো নগদ নয় এমন সরকারি সুবিধা নেওয়াকেও গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্যতার কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

নতুন প্রস্তাবে শুধু আবেদনকারী নিজে কী ধরনের সুবিধা নিয়েছেন তা নয়, তার পরিবারের সদস্যরা কী ধরনের সরকারি সুবিধা পেয়েছেন, সেটিও যাচাইয়ের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। ডিএইচএসের এক মুখপাত্র নতুন বিধির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি মামলাকারীদের ‘বামপন্থী নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করে অভিযোগ করেন, তারা আশঙ্কা করছেন যে ফেডারেল সরকারের অর্থায়ন হারাবেন। কারণ, লাখ লাখ ‘অবৈধ অভিবাসী ও অ-নাগরিক’ হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কল্যাণমূলক কর্মসূচি থেকে নিজেদের সরিয়ে নেবেন।

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি এক বিবৃতিতে বলেন, নতুন এই বিধির লক্ষ্য হলো অভিবাসী পরিবারগুলোকে সেই কর্মসূচিগুলো থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া, যেগুলো কয়েক দশক ধরে মানুষকে খাবার ও স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ দিয়ে আসছে।

কংগ্রেসের ক্ষমতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ

মামলাকারীরা বলছেন, কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন তার আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। তাদের যুক্তি, স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার যোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণের একমাত্র ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে।

তাদের আরও দাবি, খাদ্য সহায়তা ও মেডিকেইডের মতো নগদ নয় এমন সরকারি সুবিধা বৈধভাবে ব্যবহার করা আবেদনকারীদের শাস্তি দেওয়ার মাধ্যমে প্রশাসন একটি বেআইনি বিধিনিষেধ তৈরি করেছে। মামলাকারীদের মতে, এই বিধিনিষেধ ফেডারেল আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।