ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে তুলে নিয়ে আসার গোপন সামরিক তথ্য ব্যবহার করে জুয়া বা প্রেডিকশন মার্কেটে বিপুল অর্থ জেতার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্যানন কেন ভ্যান ডাইক নামের ওই সেনার বিরুদ্ধে গোপন সরকারি তথ্য ব্যক্তিগত লাভের জন্য ব্যবহারের অভিযোগ এনেছে মার্কিন বিচার বিভাগ।
তদন্তকারীদের মতে, ভ্যান ডাইক উত্তর ক্যারোলাইনার ফোর্ট ব্র্যাগের একজন সক্রিয় সেনাসদস্য। তিনি ‘অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজলভ’ নামক গোপন অভিযানে যুক্ত থেকে মাদুরোকে আটকের সময় ও পদ্ধতি সম্পর্কে আগে থেকেই জানতেন। এ তথ্য গোপন রেখেই তিনি ‘পলিমার্কেট’ নামক একটি ক্রিপ্টো প্ল্যাটফর্মে মাদুরোর পতন এবং ভেনেজুয়েলা-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে বাজি ধরেন।
অভিযোগ উঠেছে, গত ২৬ ডিসেম্বর তিনি অ্যাকাউন্ট খুলে মাদুরোকে তুলে আনার ওপর প্রায় ৩৩ হাজার ডলার বাজি ধরেন। অভিযানটি গত ৩ জানুয়ারি রাতে সফল হওয়ার পর ওই বাজি থেকে তিনি ৪ লাখ ৯ হাজার ডলারেরও বেশি (প্রায় ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা) মুনাফা করেন।
মার্কিন বিচার বিভাগ বলছে, এটি সরাসরি ‘ইনসাইডার ট্রেডিং’ এবং ফেডারেল আইনের অধীনে গুরুতর অপরাধ। ভ্যান ডাইকের বিরুদ্ধে গোপন তথ্য চুরি, কমোডিটি ফ্রড এবং মানি লন্ডারিংসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।
অ্যাক্টিং মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যানচে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ওপর যে আস্থা রাখা হয়, তা ব্যক্তিগত আর্থিক লাভের জন্য ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্যের সুরক্ষা সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।’
গত ৩ জানুয়ারি নিউইয়র্কের প্রসিকিউটরদের নির্দেশে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে রাতের অন্ধকারে এক নাটকীয় অভিযানে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তুলে নিয়ে আসে মার্কিন বাহিনী। বর্তমানে মাদুরোকে নিউইয়র্কে অস্ত্র ও মাদক-সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে। হ্যাকার বা ইনসাইডার হিসেবে পরিচিত ভ্যান ডাইক এই পুরো অভিযানের প্রতিটি ধাপ সম্পর্কে আগে থেকেই অবগত ছিলেন।
এ ঘটনা প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে জানতেন না, তবে তদন্ত করে দেখবেন। প্রেডিকশন মার্কেটের এই জুয়া খেলার প্রবণতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘পুরো বিশ্ব এখন ক্যাসিনোতে পরিণত হয়েছে। ইউরোপসহ সব জায়গায় এসব বাজি ধরার বিষয় চলছে, আমি কখনোই এসবের পক্ষে ছিলাম না।’
অনলাইন প্ল্যাটফর্ম পলিমার্কেট জানিয়েছে, কোনো ব্যবহারকারী সরকারি গোপন তথ্য ব্যবহার করে ট্রেড করছে, এটি জানার সঙ্গে সঙ্গে তারা বিষয়টি বিচার বিভাগকে জানায় এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করে।
বর্তমানে ভ্যান ডাইক নিউইয়র্কের আদালতে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড হতে পারে।