হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

ইরানে হামলায় ‘মাদার অব অল বোম্বস’ ব্যবহারের কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র, সিএনএনের প্রতিবেদন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অ-পারমাণবিক বোমা ‘মাদার অব অল বম্বস’। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালাতে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অপারমাণবিক বোমা হিসেবে পরিচিত ‘মাদার অব অল বোম্বস’ ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বা পরে আবার সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দিলে এ পরিকল্পনা কার্যকর করা হতে পারে।

এই বোমা ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনাসংক্রান্ত আলোচনার সঙ্গে পরিচিত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে প্রথমবারের মতো মার্কিন অস্ত্রভান্ডারের সবচেয়ে বড় অপারমাণবিক বোমা জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট (এমওএবি) বা ‘মাদার অব অল বোম্বস’ ব্যবহার করার কথা ভাবা হচ্ছে। এই ভাবনা বাস্তবে রূপ নিলে তা যুদ্ধের ব্যাপকতা বাড়িয়ে দেবে। তবে ট্রাম্পঘোষিত কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে কিংবা যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি বদলাতে এই বোমা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

অত্যন্ত অজনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের কাছ থেকে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন রিপাবলিকানরা। এদিকে ছয় মাসের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলা চললেও আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের বিরোধ নিষ্পত্তির কোনো লক্ষণ তেমন দেখা যাচ্ছে না।

ইরানের যেসব লক্ষ্যবস্তুতে এখনো হামলা চালানো বাকি রয়েছে, সেগুলোতে আঘাত হানার সম্ভাব্য বিকল্পগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ট্রাম্পের সামনে তুলে ধরছে। তবে প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা ব্যক্তিগত আলোচনায় প্রশ্ন তুলছেন, এসব পরিকল্পনাকে এমন কোনো কৌশলের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে কি না, যা বাস্তবে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারবে।

যুদ্ধ শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র প্রেসিডেন্টেরই রয়েছে। তাই যুদ্ধের অবসান ঘটানোর ক্ষেত্রে অন্তত জনসমক্ষে উপস্থাপনের দিক থেকে ‘চূড়ান্ত’ বলে বিবেচিত হতে পারে—এমন বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে কয়েক মাস ধরেই ট্রাম্প ও তাঁর উপদেষ্টারা আলোচনা করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে যুদ্ধটি কতটা অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, সে বিষয়ে তাঁরা সচেতন।

যুদ্ধটি কার্যত জিতে নেওয়া হয়েছে বলে মনে করেন ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা। তবে সাম্প্রতিক বক্তব্যে ট্রাম্প তুলনামূলক সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি এখনো বিজয় ঘোষণা করেননি; বরং বলেছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কাজ এখনো বাকি রয়েছে।

পর্দার আড়ালে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু মিত্রের পরামর্শ নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। এসব মিত্র তাঁকে মার্কিন সেনাদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে পরিস্থিতি পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু ট্রাম্পের যুক্তি, এভাবে সরে এলে তা পরাজয় হিসেবে দেখা হবে।

গত কয়েক সপ্তাহে ইরান নিয়ে বিভিন্ন বিকল্প পর্যালোচনা করতে হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টারা একাধিক বৈঠক করেছেন। ট্রাম্প প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তিনি নতুন কোনো পদক্ষেপ নেবেন না। তবে তাঁর কয়েকজন উপদেষ্টা ব্যক্তিগত আলোচনায় বলেছেন, এই ঘোষণা চূড়ান্ত কি না, কিংবা নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার আগে তা বদলে যেতে পারে কি না, সে বিষয়ে তাঁরা নিশ্চিত নন।

সিএনএনকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প সামরিক বাহিনীকে ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য আরও কিছু পরিকল্পনা তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছেন। এসব পরিকল্পনায় ‘বিপুল পরিমাণ জ্বালানি অবকাঠামো’ লক্ষ্যবস্তু করার পাশাপাশি এমওএবি ব্যবহারের সম্ভাবনাও রয়েছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

ওই সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য হামলার সময় সম্পর্কে বলা হয়েছে, এটি হবে ‘সেন্টকমের দায়িত্বাধীন এলাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী প্রত্যাহারের আগে’। এতে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, প্রশাসন অতিরিক্ত হামলা চালিয়ে বিজয় ঘোষণা করার চেষ্টা করতে পারে এবং এরপর দ্রুত সব সেনা ও সদস্যকে প্রত্যাহার করে নিতে পারে।

আরও একটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার সামরিক পরিকল্পনায়ও এমওএবি ব্যবহারের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনও রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারণা, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির বিভিন্ন উপাদান পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে সংরক্ষণ করেছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান স্থগিত করার পরও ট্রাম্প গত কয়েক মাসে বারবার এই স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েছেন। ইরান যাতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেটিই তাঁর লক্ষ্য বলে তিনি এখনো জোর দিয়ে বলে আসছেন।