হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

সাদ্দাম আমলের গোয়েন্দা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার যুক্তরাষ্ট্রে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

গ্রেপ্তার রাদ আলানবাগি (বায়ে) ও ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের শাসনামলে উচ্চপদস্থ গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এক ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে গ্রেপ্তার করেছে কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সময় গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এক্সে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (এইচএসআই) জানায়, সাদ্দাম সরকারের সঙ্গে ওই ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়ার পর তদন্ত শুরু করা হয়। তদন্তের পর তাঁকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তির নাম রাদ আলানবাগি।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনালকে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানায়, আলানবাগি ২০১৪ সালে নিউইয়র্ক হয়ে আইনগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে তিনি তাঁর বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের শর্ত লঙ্ঘন করেন বলে অভিযোগ করেছে বিভাগটি। চলমান তদন্তের স্বার্থে এর বেশি কোনো তথ্য জানাতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে ডিএইচএস।

এইচএসআইয়ের পোস্টে আলানবাগিকে সাদ্দাম সরকারের একজন ‘উচ্চপদস্থ’ সাবেক কর্মকর্তা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

সাদ্দাম হোসেনের দীর্ঘ শাসনামলে ইরাকের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা বাহিনী ছিল রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। এসব সংস্থার মাধ্যমে সাদ্দাম তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে প্রকৃত কিংবা কথিত হুমকি মোকাবিলা করতেন এবং ক্ষমতা ধরে রাখতেন।

তবে আলানবাগি কীভাবে অতীত পরিচয় সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছিলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তাঁর বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেটিও জানা যায়নি। মিশিগানে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফেডারেল অভিযোগপত্রও সরকারি ডেটাবেইসে পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে কোনো ব্যক্তি কোনো সর্বাত্মকতাবাদী দলের সদস্য হলে তাঁকে দেশটিতে প্রবেশের অযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। এ ছাড়া ভিসা বা নাগরিকত্ব পাওয়ার আবেদনে মিথ্যা তথ্য দিলে তাঁর বৈধ অভিবাসন-সংক্রান্ত মর্যাদা বাতিল, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার ও আজীবনের জন্য দেশটিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার মতো শাস্তি হতে পারে।

সাদ্দাম সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের এটি প্রথম ঘটনা নয়। ২০২০ সালে সাবেক ইরাকি কর্নেল সাদ আল কায়সি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন। তাঁকে তিন বছরের প্রবেশন দেওয়া হয় এবং তাঁর মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়।